পডুয়াদের নিয়ে কলকাতা ভ্রমণের উদ্যোগ! বিপাকে শিক্ষক

146

ইটাহার: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের কলকাতা ভ্রমণে নিয়ে যেতে গিয়ে বিপাকে এক সরকারি স্কুল শিক্ষক। শনিবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ স্টেশনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও পড়ুয়াদের আটকে দেয় আরপিএফ। অভিযোগ, পড়ুয়াদের অভিভাবকদের সন্মতি বা স্থানীয় প্রশাসনের কোনও বৈধ অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি ওই শিক্ষক। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও অনেক প্রশ্নের সদুত্তর দিতে ব্যার্থ হন তিনি।

এতেই সন্দেহ আরও জোরালো হয়। এর পরেই ওই শিক্ষক সহ পঁচিশ জন কিশোর-কিশোরীকে আটক করে জিআরপি। তাদের রায়গঞ্জ স্টেশনের জিআরপি থানায় বসিয়ে রেখে খবর দেওয়া হয় চাইল্ড লাইনকে। চাইল্ড লাইনের সদস্যরা এসে ওই শিশুদের হোমে রাখার ব্যবস্থা করলেও ছেড়ে দেওয়া হয় অভিযুক্ত শিক্ষককে। চাইল্ড লাইন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি শিশুর বাড়িতে গিয়ে অভিভাবক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে সন্দেহমুক্ত হওয়ার পরেই তাদেরকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির মাধ্যমে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

- Advertisement -

এদিকে এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে ওই শিক্ষক ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও প্রশাসন। পাশাপাশি ওই শিশুদের পাচার বা অন্য কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোভিড বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে ওই বেসরকারি স্কুলটি বেআইনিভাবে খোলা রেখে পঠন-পাঠন চালাচ্ছিল এবং কীভাবে যথাযথ বৈধ অনুমতি ছাড়াই এতজন শিশুকে একসঙ্গে ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মুজাহেদুল ইসলাম চাকরি করেন দক্ষিণ দিনাজপুরের মহেন্দ্র হাই স্কুলে। সরকার পোষিত হাই স্কুলের শিক্ষক হয়ে তিনি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের কেন ভ্রমণে নিয়ে যাচ্ছিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাঁদের মৌখিক অনুমতি নিয়েই ওই শিশুদের ভ্রমণে নিয়ে যাচ্ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। আব্বাস আলি নামে এক অভিভাবক জানান, অনুমতি নিয়েই তাঁর ছেলেকে ভ্রমনে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু করোনা বিধির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।

অভিযুক্ত শিক্ষক মুজাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন তিনি মুহাম্মাদ অ্যাকাডেমি নামে ওই স্কুলের একজন উপদেষ্টা। তিনি তার পরিবার নিয়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কলকাতা যাচ্ছিলেন। তাই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে ওই পড়ুয়াদের ভ্রমণে পাঠাচ্ছিলেন। সঙ্গে ওই স্কুলের একজন শিক্ষকও ছিলেন। রবিবার গোটা ঘটনার সরেজমিন তদন্তে নামেন ইটাহারের বিডিও অমিত বিশ্বাস ও ইটাহার থানার আইসি মানবেন্দ্র সাহা। প্রশাসনের দুই আধিকারিক এদিন দুপুরে ইটাহারের আলগ্রাম পার্শ্বস্থ একটি বাঁধের ধারে ওই আবাসিক মিশনারি স্কুলে গিয়ে হাজির হন। তাঁরা কথা বলেন স্কুলের দুই শিক্ষক, দুই শিক্ষিকা সহ হোস্টেলে উপস্থিত ১৩ জন খুদে পড়ুয়ার সঙ্গে। স্কুলের বেশ কিছু খাতাপত্র খতিয়ে দেখার জন্য বাজেয়াপ্ত করেন তাঁরা।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করে যথাযথ কোভিডবিধি মেনেই আমরা স্কুল চালাচ্ছিলাম। শনিবার স্কুলের তরফে বিভিন্ন ক্লাসের পঁচিশ জন পড়ুয়াকে সামাউন হক নামে এক শিক্ষকের দায়িত্বে কলকাতা ভ্রমণে পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু তার জন্য অভিভাবকদের ও স্থানীয় প্রশাসনের লিখিত অনুমতি নিতে হয় বলে আমাদের জানা ছিল না। এই অজ্ঞতার জন্যই আমাদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হল। পরবর্তীতে এই ভুল আর হবে না।’ বিডিও অমিত বিশ্বাস বলেন, ‘কোভিডবিধি উপেক্ষা করে এভাবে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চলছিল তা আমার জানা ছিল না। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’