দায় এড়িয়ে চলেছেন প্রধান শিক্ষক, বিডিও’র দ্বারস্থ পড়ুয়ারা

258

বর্ধমান: দেখা নেই প্রধান শিক্ষকের। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরও ট্যাব পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের পাঁচড়া সাগরচন্দ্র রক্ষিত স্মৃতি বিদ্যালয়ের ৪৮ জন পড়ুয়া। ঘটনায় মঙ্গলবার জামালপুরের বিডিওর দ্বারস্থ হন ছাত্রছাত্রীরা। লিখিত অভিযোগও জমা করেন তারা। অভিযোগ, এত কিছুর পরেও এদিন বিদ্যালয়ে না এসে ফোন সুইচ অফ করে রাখেন প্রধান শিক্ষক বিশালচরণ রায়। প্রধান শিক্ষকের এই কার্যকলাপে বেজায় চটেছেন প্রশাসনের কর্তারা।

করোনার কারণে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্যাব কেনা বাবদ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই মোতাবেক বিভিন্ন স্কুলের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে ইতিমধ্যে। তবে, ব্যতিক্রমী জামালপুরের সাগরচন্দ্র রক্ষিত স্মৃতি বিদ্যালয়। অভিযোগ, এই সংক্রান্ত স্কুলের তরফে যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার দরকার ছিল তার কোনও কিছুই করেননি প্রধান শিক্ষক। ছাত্র রাহুল পরামানিক ও ছাত্রী বিপাশা ঘোষ বলে, তারা যাতে ‘ট্যাব’ পেতে পারে সেই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কোনও ব্যবস্থাই এখনও পর্যন্ত নেননি। তিনি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করছেন না। অভিভাবকরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বিশালচরণ রায় স্কুলেও দীর্ঘদিন ধরে আসছেন না। নিজের মোবাইল ফোনও সুইচড অফ করে রেখেছেন। ৪ জানুয়ারি অর্থাৎ সোমবার প্রধান শিক্ষকের বিদ্যালয়ে আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। ছাত্রছাত্রীরা আরও জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক এভাবে দায় এড়িয়ে যাওয়ায় তাদের ‘ট্যাব’ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

- Advertisement -

জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগের বিষয়টি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান জানিয়েছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থের বিষয়ে অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। পাঁচড়া স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা যাতে ‘ট্যাব’ থেকে বঞ্চিত না হয় সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বিশালচরণ রায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি।