বাড়ি গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন হেডস্যর

জলপাইগুড়ি : সাতসকালেই মোটরবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। ফিরছেন পড়ন্ত দুপুরে। পালা করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে পড়াচ্ছেন তিনি। বাহাদুর, চড়কডাঙ্গি সহ জলপাইগুড়ি সদরের বিভিন্ন এলকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াচ্ছেন বাহাদুর মুন্নাজ হ্যাপি হোমের প্রধান শিক্ষক তনয়কান্তি দাস। সাতসকালে গিয়ে নমিতা রায়, আজিষ্ণু মণ্ডল, পাপ্পু রায়, সাদিক মহম্মদ, বীণা চক্রবর্তীদের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন এই শিক্ষক।

করোনার জেরে দীর্ঘ তিনমাস বিদ্যালয় বন্ধ। কৃষক পরিবারের ছেলেমেয়েদের আর্থিক দুরবস্থা রয়েছে। অভিভাবকদের পক্ষে গৃহশিক্ষক রাখা সম্ভব নয়। তাই তনয়বাবু বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে আসছেন। প্রধান শিক্ষকের এই ভূমিকায় অভিভাবকরা অভিভূত। বিনয় রায়, নারায়ণ চক্রবর্তী সহ অন্য অভিভাবকরা জানান, তনয়বাবুর তুলনা হয় না। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নমিতা রায় বলে, সাতসকালে বাড়ির দরজায় হেডস্যরকে দেখে অবাক হয়ে যাই। স্যর জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় বসব। তাড়াতাড়ি বসার জায়গা করে দিলাম। স্যর আমাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে পড়ালেন। হোম টাস্ক দিলেন। পড়ার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখছেন। দশম শ্রেণির ছাত্রী বীণা চক্রবর্তী বলে, আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেব। স্যর এসে পরীক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, তার খুঁটিনাটি দেখিয়ে দিয়ে গেলেন। প্রায়ই স্যর আমার পড়াশোনার বিষয়ে খোঁজ রাখেন।

- Advertisement -

প্রধান শিক্ষক তনয়কান্তি দাস বলেন, বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজ করতেই হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসে পড়ানোর সুযোগ না পেয়ে খুব খারাপ লাগছে। প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে সাতসকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ছি। ওদের বাড়িতে পড়িয়ে দারুণ আনন্দ পাচ্ছি। বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাটি আর্থিক দিক দিয়ে খুবই দুর্বল। কিন্তু ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও পড়াশোনার বিষয়ে দারুণ আগ্রহ। তাই ওদের পাশে রয়েছি।