দিনহাটায় পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র দুমাস বন্ধ

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : গত মে মাসের শেষের দিক থেকে কোচবিহার জেলার ছবি এক লহমায় পালটে গিয়েছে। দিন দিন জেলায় করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সংক্রামিতের সংখ্যার দিক থেকে জেলার মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে দিনহাটা মহকুমা। এই পরিস্থিতিতে দিনহাটা পুর এলাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ছবি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত কয়েকদিনে পুরসভার তরফে বাজার স্থানান্তর থেকে শুরু করে শহরে বাইক, টোটো বন্ধ বা ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দিকে পুরসভার নজর নেই বললেই চলে।

একসময় দিনহাটা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছিল। সেখানে সপ্তাহে এক থেকে দুদিন চিকিৎসক বসতেন। বাসিন্দাদের কারও কোনও সমস্যা থাকলে তাঁরা চিকিৎসককে দেখিয়ে ওষুধ নিতেন। কিন্তু গত দুমাসেরও বেশি সময় ধরে ওয়ার্ডভিত্তিক এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি বন্ধ রয়েছে। শহরের বাসিন্দা মঞ্জু সাহা বলেন, অনেক সময় অল্প শরীর খারাপ হলেও মনে ভয় হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা থাকলে অন্তত সেখানে গিয়ে চিকিৎসক দেখিয়ে ভয় কাটানো যেত। আরেক বাসিন্দা পিন্টু দেবনাথ বলেন, এখনও অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের থার্মাল গান দিয়ে স্ক্রিনিং করা হয়নি। এর ফলে তাঁরাও একপ্রকার আতঙ্কিত।

- Advertisement -

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনহাটায় প্রতিটি ওয়ার্ডে যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে, তাতে মাত্র একজন চিকিৎসক, ১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৪ জন ফিল্ড সুপারভাইজার রয়েছেন। তবে তা যথেষ্ট নয়। পুরসভার হেলথ অফিসার বিদ্যুৎকমল সাহা বলেন, পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি অত্যন্ত সংকীর্ণ। এর ফলে সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে রোগী দেখা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সেগুলি বন্ধ আছে। তবে তিনি জানান, পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারও জ্বর ও অন্য উপসর্গ রয়েছে কি না, তা যাচাই করছেন। প্রয়োজনে ওষুধও দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আগে পুরসভার কাছে যথেষ্ট পরিমাণে থার্মাল গান ছিল না। তবে এখন পর্যপ্ত পরিমাণে থার্মাল গান আসায় খুব শীঘ্রই বাকি এলাকাতেও স্ক্রিনিং করা হবে। শহরের কোনও বাসিন্দা যদি বাইরে থেকে আসেন, তবে তাঁদের হোম কোয়ারান্টিন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা গিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে পোস্টারও লাগিয়ে দিয়ে আসছেন। তিনি জানান, এখন ৪৬ জন বাসিন্দা হোম কোয়ারান্টিনে রয়েছেন।

পুরসভার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিরোধীরাও সরব হয়েছেন। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শুভ্রালোক দাসের অভিযোগ, অন্য পুরসভায় যখন করোনা পরিস্থিতিতে কী করা হবে, তা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হচ্ছে, তখন এখানে পুরসভা একাই সমস্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তা চালুর ব্যাপারে পুরসভার কোনও উদ্যোগ নেই। পাশাপাশি পুরসভার তরফে একসময় বলা হয়েছিল, শহরে আসা সমস্ত গাড়িকে স্যানিটাইজ করা হবে। তাও হচ্ছে না। স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকের অভাব নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুরসভা। বিজেপির জেলা সম্পাদক সুদেব কর্মকার বলেন, পুরসভার করোনা প্রতিরোধে কোনওরকম পরিকল্পনা নেই। আগামীদিনে এর ফল ভুগতে হবে বাসিন্দাদের।

পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ জানান, করোনা প্রতিরোধে শহরবাসীকে নানাভাবে সচেতন করা হয়েছে। বন্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির বিষয়ে তিনি জানান, সেগুলি আবার শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, শহরে এখন এত গাড়ি ঢুকছে যে তাদের সকলকে স্যানিটাইজ করা অসম্ভব। বিরোধীদের সমালোচনার উত্তরে তাঁর পালটা অভিযোগ, তিনি যখন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন, তখন বিরোধীরা পাশে ছিল না। তারা শুধু সমালোচনাই জানেন বলে তাঁর অভিযোগ।