স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ল্যাব তালাবন্ধ এক মাস, সমস্যায় রোগীরা

- Advertisement -

দিনহাটা : এক মাস ধরে দিনহাটা মহকুমার গোসানিমারি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ল্যাবরেটরি তালাবন্ধ। যার জেরে সমস্যায় পড়েছেন বহু রোগী। রোগীদের অভিযোগ, কফ ও রক্ত পরীক্ষার জন্য তাঁরা গত এক মাস ধরে ঘুরছেন। এই পরিস্থিতিতে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। অবশ্য জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

দিনহাটা মহকুমার দিনহাটা-১ ব্লকের বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে গোসানিমারি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। গোসানিমারি-১ ও ২, পেটলা, মাতালহাট, বড় শৌলমারি সহ দিনহাটা-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসা পরিষেবা এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি সিতাই ব্লকের ব্রহ্মোত্তরচাতরা ও আদাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু অংশ, কোচবিহার সদরের একটা অংশের বাসিন্দারাও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আসেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে দৈনিক গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জনের কফ ও রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হত। তার মধ্যে কিছু নমুনা স্বাস্থ্যকর্মীরা এলাকা থেকে সংগ্রহ করতেন। আবার অনেক রোগী নিজেরাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে নমুনা দিতেন।

অভিযোগ উঠেছে, গত এক মাস ধরে এই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ল্যাবরেটরটি তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যার জেরে রোগীদের কফ ও রক্ত পরীক্ষা দিনের পর দিন বন্ধ হয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কফ ও রক্ত পরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের মধ্যে গজেন বর্মন বলেন, কফ পরীক্ষার জন্য কয়েকদিন থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ফিরে যাচ্ছি। ল্যাব তালাবন্ধ অবস্থায় দেখছি। অনেক পয়সা খরচ করে আমাদের তো প্রাইভেট ল্যাবরেটরিতে কফ পরীক্ষা করার সামর্থ্য নেই। অপর রোগী নজমাল মিয়াঁ বলেন, একদিন মাঠে কাজ না করলে আমাদের পেটে ভাত যায় না। কাজের ক্ষতি করে কয়েকদিন থেকে ঘুরছি। এদিনও রক্ত পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু ল্যাব খোলেনি। একইভাবে হয়রানির শিকার হয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন জহির মিয়াঁ, ক্যাচালু বর্মনরা।

তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল টেকনলজিস্ট সুভাষচন্দ্র দাস বলেন, আমাকে বিএমওএইচ করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষার কাজে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই গত এক মাস ধরে আমি ল্যাব খুলতে পারছি না। গোসানিমারি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচ অঞ্জন হাঁসদার সাফাই, আমার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুজনের জায়গায় একজন টেকনলজিস্ট রয়েছেন। তাঁকে করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষার কাজে লাগানো হয়েছে। কাজেই এক মাস ধরে ল্যাবের পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে আমার করার কিছু নেই। এ বিষয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিত ঘোষ বলেন, করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষার কাজ চললেও ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল টেকনলজি ল্যাব বন্ধ থাকার কথা নয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -