কোভিড পরবর্তী সমস্যা মোকাবিলায় পৃথক আউটডোর স্বাস্থ্য দপ্তরের

128
ছবি : সংগৃহীত

আলিপুরদুয়ার: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গোটা রাজ্যের মতো প্রতি জেলায় জেলায় করোনা গ্রাফ নিম্নমুখী হলেও চিন্তা বাড়াচ্ছে পোস্ট কোভিড সমস্যা। করোনায় আক্রান্ত হবার পর সুস্থ হয়ে অনেকের মধ্যেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে পোস্ট কোভিড আউটডোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার পর কোনও সমস্যা হলে এই আউটডোর থেকে বিভিন্ন উপদেশ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ১ জুলাই পর্যন্ত জেলায় করোনা অ্যাকটিভ কেস রয়েছে ৩৪৯ জন। জেলায় বর্তমান সুস্থতার হার ৯৬.৮৫% এবং মৃত্যুর হার ০.৬৯%। জেলায় এখনও পর্যন্ত করোনার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ২৬৫৯০১ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৮৭২৪৯ জন। অন্যান্য জেলার তুলনায় এই জেলায় করোনা অনেকটা বেশি নিয়ন্ত্রিত বলেই দাবি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের।

- Advertisement -

তপসিখাতা কোভিড হাসপাতালের সুপার ডাঃ উদয় দাস বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হবার পর যাদের শরীরে অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে এবং অক্সিজেন দরকার পড়ছে, তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার পর কিছু কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছে উপসর্গহীনভাবে, তাদের মধ্যেই কোনও সমস্যা দেখা যাচ্ছে না।করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ৫০% রোগীর সুস্থ্য হয়ে ওঠার পর কিছু কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সব বিষয়ের উপর আমরা নজর রাখছি।’

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গিরিশ চন্দ্র বেরা বলেন, ‘জেলায় করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পোস্ট কোভিড কিছু সমস্যা সামনে আসছে। কারও ফুসফুসে কিছু সমস্যা হচ্ছে, কারও কিডনিতে এবং হার্টেও কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। কিছু মানসিক সমস্যাও দেখা যাচ্ছে। সেজন্য জেলা হাসপাতালে পোস্ট কোভিড আউটডোর খোলা হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এবং শনিবার এই আউটডোর খোলা থাকবে। কোনও সমস্যা হলে সেখানে যোগাযোগ করা যেতে পারে।’

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ ভাস্কর সেন বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে মাস্ক, স্যানিটাইজার, সোশ্যাল ডিসটেন্স অবশ্যই পালন করতে হবে। অনেকেই সুস্থ হয়ে গিয়েছেন বলে ঠিক করে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। প্রচুর পরিমাণে জল, সবজি ও ফল খেতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।’