শিলিগুড়ির একটি কোভিড হাসপাতালের দায়িত্ব ছাড়ছে স্বাস্থ্য দপ্তর

4354
ছবি: সূত্রধর

শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে একটি কোভিড হাসপাতাল বেসরকারি সংস্থাকে ছেড়ে দিতে পারে স্বাস্থ্য দপ্তর।সেক্ষেত্রে ওই বেসরকারি সংস্থাই হাসপাতালটি চালাবে। সেখানে করোনায় সংক্রামিত হয়ে রোগীরা ভরতি হলে তাঁর চিকিৎসার খরচ রাজ্য সরকারই বহন করবে, কিন্তু চিকিৎসার দায়িত্ব বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাস থেকেই ওই বেসরকারি হাসপাতালটির দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাইছেন না। অন্যদিকে শুক্রবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এসে বৈঠক করেন রাজ্যের তিন স্বাস্থ্যকর্তা। তার পরে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।

শিলিগুড়িতে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার পরপরই এপ্রিল মাসের শুরুতে হিমাঞ্চল বিহারে একটি বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ করে স্বাস্থ্য দপ্তর। সেটিই উত্তরবঙ্গের প্রথম কোভিড হাসপাতাল। এর পরেই ২৯ এপ্রিল থেকে কাওয়াখালিতে অপর একটি বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ করে সেখানে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেসের (সারি) রোগীদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু করোনায় সংক্রমণ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে কাওয়াখালির ওই সারি হাসপাতালকে কোভিডে পরিবর্তিত করা হয়। সেখানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটও চালু করা হয়। এই বিভাগ চালু করতে গিয়ে সরকারের খরচ আরও অনেকটাই বেড়েছে। প্রথমে কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতালে ৬০টি শয্যা নেওয়া হয়েছিল। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় শয্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় পুরো হাসপাতালই অর্থাৎ ১৬০টি শয্যাই নেওয়া হয়েছে। হিমাঞ্চল বিহারের কোভিড হাসপাতালেও কেবিন এবং সাধারণ শয্যা মিলিয়ে ১৩০টি শয্যা নেওয়া হয়েছে। এই হাসপাতাল দুটি চালাতে মাসে রাজ্য সরকারের প্রায় এক কোটি টাকা শুধু শয্যা ভাড়া হিসাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, রোগীদের খাবার সহ অন্যান্য ওষুধপত্র, সিসিইউ-এর চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সব মিলিয়ে প্রতিদিন রোগী পিছু খরচ রয়েছে প্রায় ৩০০০ টাকা। শুধু শিলিগুড়িতেই এত কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এর বাইরে উত্তরবঙ্গের প্রত্যেকটি জেলাতেও কোভিড এবং সারি হাসপাতাল, সেফ হাউস রয়েছে। খরচ কীভাবে কমানো যায় সেদিকেই এখন নজর দিচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক শীর্ষ আমলার বক্তব্য, একটা ভালো কাজ হয়েছে যে মানুষ এই রোগের ভয়টাকে অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। ফলে কোভিডে সংক্রামিত হওয়ার পরে হোম আইসোলেশনে থাকার প্রবণতা বাড়ছে। এটা ভালো যে যাদের কোনো উপসর্গ নেই তাঁরা বাড়িতেই থাকছেন। রাজ্যের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী সংক্রামিত রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশই হোম আইসোলেশনে আছেন। ফলে কোভিড হাসপাতালগুলির অনেক শয্যা ফাঁকাই থাকছে। যার জেরেই শিলিগুড়িতে একটি কোভিড হাসপাতাল ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। আগামী মাস থেকে কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতাল অথবা হিমাঞ্চল বিহারের হাসপাতাল যে কোনো একটি ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাওয়াখালির হাসপাতালে খরচ বেশি হওয়ায় ওই হাসপাতাল ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদিও রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসে সংক্রমণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, এই কোভিড হাসপাতাল ছেড়ে দিলে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপরে চাপ বাড়বে। এখনই আইসোলেশন, রেসপিরেটরি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (রিকু) মিলিয়ে প্রতিদিনই বেশ কয়েকজন করে করোনা সংক্রামিত হচ্ছেন। এছাড়া এখানে ৮০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডও রয়েছে। একটি কোভিড হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেলে এখানে আরও চাপ বাড়বে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

শুক্রবার কলকাতায় ফেরার আগে মেডিকেলে বৈঠক করেন ন্যাশনাল হেলথ মিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৌমিত্র মোহন, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা ডাঃ দেবাশিষ ভট্টাচার্য। বৈঠকে মেডিকেলের সিটি স্ক্যান না থাকা, ক্যাথ ল্যাব চালু করা, দ্রুত সুপার স্পেশালিটি ব্লক চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সব সমস্যাই দ্রুত মিটবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী।