ভ্যাকসিনে অনীহা কাটাতে উৎসাহ দেবে স্বাস্থ্য দপ্তর

125
প্রতীকী

শিলিগুড়ি : প্রত্যাশা মতো দার্জিলিং জেলায় ভ্যাকসিনেশনের কাজ হচ্ছে না। এইজন্য চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অনীহাকেই দাযী করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। বুধবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে প্রসঙ্গটি ওঠে। বৈঠক থেকেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এদিনই রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে মেডিকেলের কোভিড ব্লকের কাজ সমাপ্ত করার জন্য পূর্ত দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ কেন এত বিলম্ব হচ্ছে তা নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যে প্রতিদিন যতজনকে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার সংখ্যা তার ধারেকাছেও পৌঁছাচ্ছে না। বুধবার রাজ্যের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৬ শতাংশ ভ্যাকসিনেশন হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন। তিনি এদিন বলেন, বুধবার রাজ্যের ৩৫০টি কেন্দ্রে মোট ৩৫ হাজার চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সহ প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সেখানে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১২৭২৫ জন।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকেও এদিন এই প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানে দার্জিলিংয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বলেন, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সহ জেলায় ভ্যাকসিনেশন অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এর কারণ হিসাবে হাসপাতাল সুপার সহ অন্যরা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের অনুৎসাহিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। অনেকেই ভ্যাকসিন নিতে দ্বিধায় রয়েছেন বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। এর পরেই সিদ্ধান্ত হয় প্রত্যেককে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হবে। কেননা, ভ্যাকসিন নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া বা কোনও বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই। বারবার বলার পরেও উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে কেন এখনও কোভিড ব্লক তৈরি হল না তা নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে। এই কোভিড ব্লক চালু না হওয়ায় সরকারকে বেসরকারি হাসপাতালে পরিষেবা দিতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে হচ্ছে বলেও বৈঠকে কোভিড ১৯-এর উত্তরবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাঃ সুশান্ত রায় জানিয়েছেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিদ্যুত্ এবং অক্সিজেন পাইপলাইনের কাজ শেষ করার জন্য রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বহু টাকা খরচ করে পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন আগে শুরু হলেও এখনও কেন সেই কাজ শেষ হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই দুই কোটি টাকার উপরে খরচ করা হয়েছে। কেন এই কাজে দেরি হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল সুপারকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই সঙ্গে এদিনের বৈঠকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়ে দিনের মধ্যেই সিটি স্ক্যান পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। তবে, বার্ন ইউনিট তৈরি করতে আরও সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ছাড়াও মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ প্রবীর দেব, হাসপাতাল সুপার ডাঃ কৌশিক সমাজদার ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, পুলিশের আধিকারিক সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -