পরিসেবা তলানিতে, অর্ধেক চিকিত্সক দিয়ে কাজ চলছে দার্জিলিং জেলায়

279

রণজিত্ ঘোষ  শিলিগুড়ি : চিকিত্সক এবং স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে দার্জিলিং জেলায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিসেবার মান ক্রমশ তলানিতে ঠেকছে। অর্থের অভাব যেমন নেই, তেমনই ওষুধ সহ অন্যান্য চিকিত্সা সামগ্রীর জোগানেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু চিকিত্সা পরিসেবা যাঁরা দেবেন সেই চিকিত্সকেরই অভাব। জেলায় সব মিলিয়ে যত হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে তাতে ২৬০-২৮০ জন চিকিত্সক প্রয়োজন। কিন্তু সব মিলিয়ে চিকিত্সক রয়েছেন দেড়শোর কিছু বেশি। সমস্যা সবচেয়ে বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নিয়ে আজও জেলায় বেশিরভাগ হাসপাতালেই প্রসূতি ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। সাধারণ এমবিবিএস চিকিত্সকরাই প্রসব করানো থেকে শুরু করে অন্যান্য চিকিত্সা করছেন। চিকিত্সকের অভাবে একাধিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত চিকিত্সা পরিসেবা দেওযা যাচ্ছে না।

দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি এই দুটি জেলা হাসপাতাল এবং কার্সিয়াং ও মিরিকে মহকুমা হাসপাতাল ছাড়াও পাহাড়, সমতল মিলিয়ে জেলায় ছয়টি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (বিপিএইচসি) রয়েছে। এছাড়া নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি এবং রংলি রংলিয়টে তিনটি গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে। এই হাসপাতালগুলির অধীনে সমতলে ৪টি এবং পাহাড়ে ১২টি মিলিয়ে মোট ১৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। সমতলে চারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগর, খড়িবাড়ির বাতাসি, রাঙ্গালি, নকশালবাড়ির বাগডোগরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

- Advertisement -

দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে খাতায়-কলমে বর্তমানে মোট চিকিত্সকের সংখ্যা ৪২। এখানে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬২টি। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে বর্তমানে ৬২ জন চিকিত্সক রয়েছেন। এখানে এখনও চিকিত্সকের ২০টি পদ ফাঁকা রয়েছে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ রোগী চিকিত্সার জন্য আসেন। অন্তর্বিভাগে ৩৫০-৩৬০ জন করে রোগী ভরতি থেকে চিকিত্সা নেন। উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে এখনও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই, প্রসূতি বিভাগেও চিকিত্সকের অভাব রয়েছে। মেডিসিন বিভাগে তিনজন চিকিত্সক থাকলেও তাঁদের পক্ষে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগের দায়িত্ব সামাল দেওযা কঠিন হয়ে পড়ছে। দার্জিলিং জেলা সদর হাসপাতালের অবস্থাও তথৈবচ। খাতায়-কলমে ৪২ জন চিকিত্সক থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালে কোনো সময়ই সমস্ত বিভাগে চিকিত্সক পাওযা যায় না বলে অভিযোগ। মহকুমা হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর মিরিক ব্লক হাসপাতালই মহকুমা হাসপাতালে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু এই হাসপাতালে এখনও মহকুমার কোনো পরিকাঠামোই তৈরি হয়নি। ব্লক হাসপাতালের চিকিত্সক, নার্স, চিকিত্সাকর্মী নিয়ে চলছে।

নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের উপরে যে শুধু এই ব্লকের মানুষই নির্ভরশীল তা নয়, এখানে খড়িবাড়ি, বাগডোগরা ছাড়াও মিরিক, পানিঘাটা এবং নেপালের একটা বড়ো অংশের মানুষ চিকিত্সার জন্য আসেন। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০-৮০০ রোগী চিকিত্সা করান। এখানে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ মোট আটজন চিকিত্সক রয়েছেন, যা প্রযোজনের তুলনায় অর্ধেক। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়ানোর উপরে রাজ্য সরকার জোর দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতি ও শিশু বিভাগে কোনো চিকিত্সক নেই। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কুন্তল ঘোষ বলেন, চিকিত্সকের পাশাপাশি আমাদের হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীরও অভাব রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মী প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, সাফাইকর্মী তো একজনও নেই। ফলে হাসপাতালকে সাফসুতরো রাখতে সমস্যা হচ্ছে। যদিও চিকিৎসকের অভাবের কথা মানতে চাননি দার্জিলিংয়ে উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(১) ডাঃ সুজয় বিষ্ণু। তিনি বলেন, যত চিকিত্সক রয়েছে তাঁরাই পরিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। কোনো জায়গা থেকেই চিকিত্সকের অভাবে চিকিত্সা পরিসেবা বন্ধ থাকার অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।