হাই ব্লাড প্রেশার? ওষুধ বন্ধ করবেন না

ডা: পুষ্পিতা মণ্ডল : যে সব ক্রনিক অসুখ থাকলে করোনা সহ যে কোনও সংক্রমণই মারাত্মক হতে পারে, উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার তার মধ্যে একটি। এটি এমনই একটি সমস্যা যা নিঃশব্দে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ক্রমশ বিকল করে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বিশ্বের প্রতি ৪ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন ও ৫ জন মহিলার ১ জন উচ্চ রক্তচাপের শিকার। শহরাঞ্চলের চল্লিশোর্ধ মানুষের মধ্যে সংখ্যাটা প্রায় পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ। হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ। তুলনামূলক ভাবে গ্রামে এই হার অল্প। শুধু এই কারণেই দুটি অসুখে বছরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মারা যান।

রক্তচাপ বৃদ্ধির বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও উপসর্গ থাকে না। কখনও কারও মাথা আর ঘাড়ে ব্যথা করে। অনেকের দুর্বল লাগে, সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট হয়, বুক ধড়ফড় করে। মাঝেমাঝে রাগ হয়, মাথা ঝিমঝিম করতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ এই উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। তাই অসুখটাও ধরা পড়ে না। কিন্তু লাগাতার অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ নিয়ে দিন কাটালে হার্ট সহ বিভিন্ন অঙ্গ একে একে বিকল হতে শুরু করে। আচমকা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্যেও দায়ী রক্তচাপের সমস্যা। আবার অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের কারণে চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বাবা, মা বা বাড়ির অন্যদের এই অসুখ থাকলে চোখে কোনও রকম সমস্যা হলেই প্রেশার চেক করানো আবশ্যিক। এসেনশিয়াল হাই ব্লাড প্রেশারের রোগীরা একইসঙ্গে ডায়াবিটিসের শিকার হতে পারেন। সেই সঙ্গে এঁদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিড, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা অনেক বেশি থাকতে পারে। নিয়মিত মনিটরিং দরকার। ওষুধ ও লাইফ স্টাইল মডিফিকেশন করে রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে হয়। প্রত্যেক ছয় সপ্তাহ অন্তর এঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রযোজন। ওষুধের মাত্রা বদলে ও নতুন ওষুধের সাহায্যে কমপ্লিকেটেড হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অনেকে রক্তচাপ স্বাভাবিক হলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেন। এই ভুল করলে রক্তচাপ বেড়ে সাংঘাতিক শারীরিক সমস্যা হতে পারে। স্ট্রোক হয়ে আজীবন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে জীবন কাটানোর ঝুঁকিও বাড়ে।

- Advertisement -

জীবনযাত্রাতেও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে নুন খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। নুনের সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। দিনে ৪-৫ গ্রামের বেশি নুন খাওয়া চলবে না। বেশি ওজন ও পেটে বাড়তি মেদ হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য মেটাবলিক ডিজিজ যেমন ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, হার্টের অসুখের সম্ভাবনা বাড়ায়। সপ্তাহে পাঁচদিন ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ঘাম ঝরিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটা, ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও প্রাণায়াম করা দরকার। স্নান খাওয়ার মতোই শরীরচর্চাকে জীবনের অঙ্গ করে নিতে হবে। পাকা কলা, কমলালেবু, বিনস, মুসুর ডাল, পালং শাক, মুসুর ডাল, রাঙা আলু ইত্যাদি পটাসিয়ামযুক্ত খাবার রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্যে করে। ডাবেও পর্যাপ্ত পটাসিয়াম আছে, সময় সুযোগ বুঝে ডাব খাওয়াও ভালো। এ ছাড়া মন ভালো রাখতে হবে ও এবং দৈনিক নিয়ম করে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। অল্প ঘুম রক্তচাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়।

যোগাযোগ ০৭৬০৪০৭৫৫৫১-৫৫