জ্বর-বসন্ত-বাতকে দূরে রাখতে চান, তবে অবশ্যই খান শোভাঞ্জন

137

উত্তরবঙ্গ সংবাদ হেল্থ ডেস্ক: ঋতু বিচারে সময়টা এখন হেমন্ত, কিন্তু মনোযোগী মানুষ সাকুল্যে তিনটে দিনও হেমন্ত-পরশ পেয়েছেন কিনা সন্দেহ! অথচ হেঁচে-কেশেই দিন পার হচ্ছে আমাদের। তার ওপর বিষফোঁড়ার মতো রয়েছে করোনার প্রকোপ, যা নিয়ে “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি” অবস্থা। ঠিক এই সময়েই আশার আলো দেখাচ্ছে শোভাঞ্জন অর্থাৎ সজনে। ডাঁটা, পাতা, ফুল এমনকি সজনে-বীজের তেল ও সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য; তবে এর সঠিক প্রয়োগ কিন্তু আপনার হাতে। গাছটি আভিজাত্যপূর্ণ হলেও কুলীন -কদর পায়নি, এবং সেই কারণেই উচ্চ মহলে তার সমাদর নেই।

বৈদিক যুগে আমরা সাদা, রক্তলাল ও নীল রঙা সজনে ফুলের গাছের উল্লেখ পেলেও বর্তমানে বারমেসে সাদা ফুলের প্রাপ্তিই আমাদের হয়। তবে সেটাও আর কতদিন আমরা পাবো বলা যাচ্ছে না। বাজারে আমরা ‘নাজনা’ বলে একপ্রকারের ডাঁটা পাই ওটাকে সজনের ভাই বলতেই পারেন কারণ বোটানিক্যাল নামটা দুজনেরই এক ‘মোরিঙ্গা ওলিফেরা ল্যাম’। নীলফুলের সজনে গাছ দুর্লভ, রক্তলাল সজনে ফুলের গাছের দেখা আগে মালদায় প্রচুর পাওয়া গেলেও দূষণ ও অজ্ঞানতার কারণে তাও অমিল। ঋকবেদে, সংহিতায় সজনে একটি অযত্নের গাছ তাই যেখানেসেখানে গজাতে এর কোনও সারের প্রয়োজন হয় না।

- Advertisement -

মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে কিছুদিন আগেও সজনে গাছের জঙ্গল দেখা যেত; আজ ধু ধু বালুচর। অসম, রাজস্থান,দক্ষিণ ভারত, বেলুচিস্তান ও সিন্ধু প্রদেশে ‘মোরিঙ্গা কনকেনেন্সিস নিম্মো’ গোত্রের রক্তাভ সজনে গাছ পাওয়া যায়, তবে বর্ণভেদে উপকারিতারও যে পার্থক্য হবে তা তো জানাই আছে। সজনের গুণাগুণ বর্ণনায় বলা হয়েছে হাম, বসন্ত, অর্শ, কৃমি, উচ্চ রক্তচাপ, মাড়ি ফোলা, দাদ, চোখ ব্যথা, সাময়িক জ্বর, কুষ্ঠ, সর্দি-কাশি, শোথ, প্লীহা, যকৃৎ রোগ, পেটরোগা, বাত, শিরাগত বাত, হেঁচকি এবং টিউমারে এক অব্যর্থ ঔষধি। আয়ুর্বেদীয় ও ইউনানি চিকিৎসায় এটি লোভনীয় সর্বরোগহারী।

সাঁওতাল, লোধা, মুণ্ডা, ভীল, কোল আদিবাসীরা সজনের ছাল, অনন্তমূল ,শুকনো মহুয়া এবং গুড় মিশিয়ে একপ্রকারের মদ তৈরি করেন এর তীব্রতাকে উপভোগের জন্যে। সজনের তেলের ব্যবহার আমাদের দেশে তেমন পাওয়া যায়না এটি আমদানি হয় আফ্রিকা থেকে; নাম ‘বেন অয়েল’। ঘড়ি ঠিক করা থেকে বাতের ব্যাথার মালিশ সবেতেই অপরিহার্য। অসমের ব্ল্যাক ওয়াটার ফিভারে সজনে মন্ত্রের মতো কাজ করে। ভিটামিন এ,বি,সি, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্রোটিন, চর্বি, কার্বোহাইড্রেট, অ্যামাইনো অ্যাসিডে ভরপুর সজনের ভাঁড়ার; আপনার প্রয়োজন অনুসারে শুধু ব্যবহারের অপেক্ষা তা সে আপনি এর ডাঁটাই খান বা পাতা বা রস; উপকার তো নিঃসন্দেহে একশো শতাংশ।