সত্তর পেরিয়েও শিশুদের স্বাস্থ্য গড়ছেন হেমন্তকুমার পাল

273

ময়নাগুড়ি : স্বাস্থ্যই সম্পদ, একথা গ্রামের শিশুদের বোঝাতে কয়েক বছর ধরে শিশুদের শারীরশিক্ষায় শিক্ষিত করতে অবিরাম পরিশ্রম করে চলেছেন অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান হেমন্তকুমার পাল। শুধু তাই নয়, নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে শিশুদের মুখে তুলে দিচ্ছেন পুষ্টিকর খাবারও। জন্মসূত্রে কোচবিহারের বাসিন্দা হলেও স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে হারিযে বর্তমানে মযনাগুড়ি ব্লকের বৌলবাড়ির বাসিন্দা বছর সত্তরের হেমন্তবাবু মাল ও মযনাগুড়ি ব্লকের বহু শিশুকে সন্তান স্নেহে শারীরিক শিক্ষার প্রশিক্ষণ দিযে চলেছেন। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

সেনাবাহিনী থেকে ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নিযে হেমন্তবাবু কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয পরিবহণ নিগমে ক্যাশিয়ারের কাজে যোগ দেন। স্ত্রী কাজল পাল ও এক ছেলে পার্থপ্রতিম পালকে নিযে সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয পরিবহণ নিগমের কাজ থেকে অবসর নেন হেমন্তবাবু। ছেলে পার্থপ্রতিম পাল বিএসএফে যোগ দেন। ২০১১ সালে প্রথম বড় আঘাত পান হেমন্তবাবু। সেই বছর ঠান্ডায ঘরের হিটারে আগুনের তাপ নিতে গিযে অগ্নিদগ্ধ হযে মারা যান স্ত্রী কাজলদেবী। এরপর ২০১৬ সালে একমাত্র ছেলে পার্থর জম্মু-কাশ্মীরে চাকরি সূত্রে বদলি হযে যাওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তারপরই তিনি কোচবিহার থেকে মযনাগুড়ি বৌলবাড়িতে দিদির বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে এসে স্থানীয় নীলকান্ত পাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নীরদচন্দ্র রায়ের অনুরোধে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মশৃঙ্খলা দেখার কাজে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন তিনি। পাশাপাশি বৌলবাড়ি, মৌলানি ও রাখালহাট এলাকার বিভিন্ন বয়সের শিশুদের শারীরিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার কাজও শুরু করেন।

- Advertisement -

হেমন্তবাবু বলেন, ‘সংসার বলতে ছিল ছেলে ও স্ত্রী। তাদের হারিয়ে বর্তমানে গ্রামের শিশুরাই আমার কাছে সব। সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য যা যা শিখেছিলাম, গ্রামের প্রায় ৪০টি শিশুকে তাই শেখাচ্ছি।’ প্রতিদিন সকাল-বিকেলে নিযম করে গ্রামের এই দরিদ্র শিশুদের শারীরশিক্ষায় শিক্ষিত করার কাজ চালিযে যাচ্ছেন তিনি। তবে শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই হয় না, তার সঙ্গে পুষ্টিকর খাবারও খেতে হয়। গ্রামের এই সমস্ত শিশুর অনেকের পরিবারের পক্ষেই পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বিলাসিতা। তাই নিজের পকেটের টাকা খরচ করে নিযমিত বহু শিশুকে পুষ্টিকর খাবারের বন্দোবস্তও করেন হেমন্তবাবু। নীলকান্ত পাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নীরদচন্দ্র রায বলেন, আজকালকার দিনে হেমন্তবাবুর মতো মানুষ পাওয়া খুবই দুষ্কর। স্থানীয বাসিন্দা তথা জলপাইগুড়ি জেলা শিশু শিক্ষা কমিটির সদস্য মহাদেব রায় বলেন, ‘হেমন্তবাবুর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’ তাঁকে সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মহাদেববাবু।

ছবি- শিশুদের কসরৎ শেখাচ্ছেন হেমন্তবাবু।

তথ্য ও ছবি- শুভদীপ শর্মা