স্যানিটাইজেশন দূরস্ত, পিপিই না পরেই মারাত্মক ঝুঁকি নিলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা

116

দিনহাটা: জীবানুমুক্তকরন দূরস্ত, যথাযথ পিপিই না পরেই বিডিও অফিস চত্ত্বরে করোনা পরীক্ষার লালা সংগ্রহ করছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা। করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউয়ে তীব্র নাজেহাল পরিস্থিতিতেও অসচেতনতার এই ছবি ধরা পড়ল কোচবিহার জেলার দিনহাটা ২ ব্লকের সাহেবগঞ্জে। ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি ব্লক ও স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার সচেতন নাগরিক ও পড়ুয়ারা। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্লক প্রশাসনের তরফে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সংক্রামনের গতিতে রাশ টানতে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত কার্যত লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। একাধিক ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দিনহাটা ২ ব্লকের একাধিক গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় করোনা পরীক্ষার শিবির করছে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর। সেই অনুযায়ী বুধবার সাহেবগঞ্জ বিডিও অফিস চত্ত্বরে করোনা পরীক্ষার শিবির ছিল। তবে, শিবিরে যথাযথভাবে জীবানুমুক্ত না করে এবং পিপিই না পরেই লালা সংগ্রহ করার দৃশ্যই ফুটে উঠল।

- Advertisement -

স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে পিপিই দেওয়া হয়েছে। শিবিরের বিষয়টি স্থানীয় ব্লক প্রশাসনকে আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু ব্লক প্রশাসন কোনও ফ্যানের ব্যবস্থা করেনি। সেই কারণে অসহ্য গরমে পিপিই পড়েননি স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন তাঁরা। এমনকি শিবিরে প্রয়োজনীয় চেয়ার টেবিলের বন্দোবস্তও তাদের নিজেদেরই করতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা। করোনা মোকাবিলায় খোদ ব্লক প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের ঢিলেঢালা মনোভাব, অসচেতনতা এবং দুই দপ্তরের সমন্বয়ের অভাবকেই দুষেছেন তাঁরা। এক কলেজ পড়ুয়া দীপেশ বর্মন বলেন, ‘করোনা আবহে খোদ বিডিও দপ্তর চত্ত্বরে অসচেতনতার এই ছবি দেখে আতকে উঠেছি। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রথম সারিতে থেকে লড়ছেন। তাদের যাতে অসুবিধে না হয় সেই বিষয়টি দেখা দরকার।’

পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট দিনহাটা ২ এর বিডিও রশ্মিদীপ্ত বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীরা পিপিই নিয়ে এসেছিলেন। তারা পিপিই পড়েই লালা সংগ্রহ করেছেন। শিবিরের যথাযথ বন্দোবস্তও করা হয়েছিল। অভিযোগ ভিত্তিহীন।‘ এবিষয়ে দিনহাটা ২ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক কেশবচন্দ্র রায়ের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।