বেহাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা

267

গাজোল: স্বাস্থ্যকেন্দ্রর বেহাল দশা। চিকিৎসা করাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বেন যে কোনও রোগী। স্বাস্থ্যভবনটি মেরামতের জন্য বারবার দাবি জানানো হলেও ধোপে টেকেনি সেই দাবি। এভাবে বেহাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বহুদিনের পুরোনো গাজোল গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। আগে এই ভবন থেকেই চিকিৎসার কাজ চলত। এরপর নতুন ভবনে গ্রামীণ হাসপাতালের কাজ শুরু হলে এখানে থেকে যায় হোমিওপ্যাথি বিভাগ, দন্ত বিভাগ, যক্ষা বিভাগ এবং শিশুদের টিকাকরণ-এর কাজ। সম্প্রতি দন্ত বিভাগ এবং হোমিওপ্যাথি বিভাগকে এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালের মূল ভবনে। কিন্তু এখনও এখানে রয়ে গিয়েছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, যক্ষা বিভাগ এবং শিশুদের টিকাকরণ বিভাগ। কিন্তু ভবনটির হাল দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল হয়ে পড়েছে। পোড়োবাড়ির রূপ নিয়েছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। হাসপাতালের ভবনে গজিয়ে উঠেছে বড় বড় বট-পাকুড় গাছ। দিনের পর দিন সেই গাছগুলির শিকড় ছড়িয়ে পড়ছে গোটা ভবনজুড়ে। হাসপাতালের ছাদে খসে পড়ছে চাঙর। যার ফলে যে কোনও সময় এখানে টিকা দিতে আসা শিশু অথবা চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের আহত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। প্রাণ হাতে নিয়ে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও।

- Advertisement -

এই বিষয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পার্থ কুন্ডু বলেন, ‘এখানে বসে প্রাণ হাতে নিয়ে কাজ করতে হয় তাঁদের। নিরাপত্তা বলে কিছুই নেই, দরজা-জানলা ভেঙে পড়েছে। মাঝেমধ্যে ছাদের আস্তরণ খসে পড়ছে। খুব ভয়ে ভয়ে কাজ করতে হয় আমাদের। ভবনটি মেরামত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আমরা আবেদন জানিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনও কাজ হয়নি।’ স্বাস্থ্যকর্মী কমলা সরকার জানান, প্রত্যেক সোমবার, বুধবার এবং শুক্রবার এখানে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ। চারিদিক আগাছায় ভরে গিয়েছে। মাঝেমধ্যেই সাপ এবং পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। শৌচালয়ের অবস্থাও খুব খারাপ। আমরা আতঙ্কে থাকি টিকা দিতে আসা শিশুরা যে কোনও সময় আহত হয়ে যেতে পারে। আমরা আবেদন জানাচ্ছি অবিলম্বে ভবনটি মেরামত করা হোক।’

গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার অঞ্জন রায় বলেন, ‘ওই ভবনটি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের আওতায় রয়েছে। তবুও আমরা হাসপাতালের তরফে যতটা পারি পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেছি। পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করব ভবনটি যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার।’ সম্প্রতি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বদলি হয়ে নতুন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক কাজে যোগ দেবেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় এই বিষয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।