দিনে তিনবার অক্সিজেনের মাত্রা মাপতে নির্দেশিকা জারি

788
প্রতীকী ছবি

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : শুধু অন কল নয়, এখন থেকে প্রতিদিন হোম আইসোলেশনে থাকা সংক্রামিতর বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। এমনই নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। রোগীদের প্রতিদিন ছয় মিনিট করে হাঁটানোর পাশাপাশি তাঁদের শারীরিক অবস্থা বুঝতে আরও সিটি স্ক্যান করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ বুঝলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এপ্রসঙ্গে রাজ্যের এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, করোনা ভাইরাস যাতে নীরবে রোগীদের শরীরে ক্ষতি করতে না পারে এবং রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়েন সেদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ খুব সুস্থ-সবল রোগীরও দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে দেখা যাচ্ছে। সেই জন্যই এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

প্রথম দিকে করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক, আশঙ্কা কাজ করছিল। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ। উপসর্গ না থাকলে সেই রোগীকে বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখার উপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সেই মতো ইদানীং বহু রোগীই শারীরিক কোনও সমস্যা না থাকলে বাড়িতেই থাকছেন। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, প্রতিদিন সংক্রামিতদের ৮০-৮৫ শতাংশই উপসর্গহীন এবং তাঁরা প্রত্যেকেই হোম আইসোলেশনে থাকছেন। কিন্তু হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে কোনও সঠিক নির্দেশিকা এতদিন ছিল না। যার ফলে শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে রোগীকেই স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হত। রোগীদের একাংশের বাড়িতে পালস অক্সিমিটার, বিপি মনিটর কিনে রাখলেও অনেকেরই সেই সাধ্য নেই। ফলে অবস্থার অবনতি হওয়ার বিষয়টিও সহজে ধরা যেত না।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্য দপ্তরকে রিপোর্ট দেয়। তাঁদের পরামর্শ মেনেই স্বাস্থ্য দপ্তর নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, হোম আইসোলেশনে থাকা প্রত্যেক রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দিনে অন্তত তিনবার মেপে দেখতে হবে। পাশাপাশি কোভিড হাসপাতাল এবং সেফ হাউসের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশিকা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ৬০ বছরের কম বয়সি রোগীদের অন্তত ছয় মিনিট এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে রোগীদের তিন মিনিট হাঁটিয়ে শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে।