জঙ্গলে ঢাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসন ছাড়তে চান স্বাস্থ্যকর্মী

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু কোনও স্থায়ী চিকিৎসক নেই। একমাত্র স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর নির্ভর করেই চলছে রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল অঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কিন্তু সেই স্বাস্থ্যকর্মী যে আবাসনে থাকেন, তার অবস্থা বেহাল। যে কোনওদিন ভেঙে পড়তে পারে, এমনই আশঙ্কায় দিন গুনছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী অসীম বর্মন। তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে এই আবাসনে ২৪ ঘণ্টা থাকেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও সমস্যার সুরাহা না হওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরে যেতে চাইছেন। শুধু আবাসন নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থাও খুব খারাপ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসক নিয়মিত না আসার কারণে ঠিকমতো পরিষেবা মেলে না।

রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল, শেরপুর, মহিপুর এবং হেমতাবাদ ব্লকের চৈনগর ও বিষ্ণুপুরের মানুষ বিন্দোল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল হলেও পরিষেবা নামমাত্র মেলে। অধিকাংশ দিন ফার্মাসিস্ট ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরাই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিৎসা পরিষেবা দেন। চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন একজন করে। কিন্তু তাঁরা সপ্তাহে একদিন করে আসেন। মাঝেমধ্যে তাঁদের দেখাও মেলা না। স্থানীয় গ্রামবাসী অশোক রায় বলেন, এখানে চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে আমাদের রায়গঞ্জে যেতে হয়। করোনা আবহে আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এখানকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে অনেকবার আবেদন করেছি। কিন্তু অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। যতদিন যাচ্ছে ততই খারাপ হচ্ছে।

- Advertisement -

শুধু পরিষেবা নয়, পরিকাঠামো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। একমাত্র স্বাস্থ্যকর্মী সরকারি আবাসনে থেকে পরিষেবা দিয়ে থাকেন। তাঁর আবাসনের অবস্থা আরও খারাপ। একদিকে ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে, অন্যদিকে জানালা, দরজা ভেঙে পড়েছে। আবাসনের চারিদিকে জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা নামতেই সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। অসীমবাবু বলেন, আমি ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিউটি দিই। আবাসনের এখন যা অবস্থা থাকতে ভয় লাগছে। একাধিকবার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছি, কিন্ত সংস্কারের কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা এবং পরিকাঠামো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারিদিকে জঙ্গল। এছাড়া সমাজবিরোধীদের উপদ্রবও রয়েছে। অশোক রায় নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখানে চিকিৎসা পরিষেবা ঠিকমতো মেলে না। কোনও স্থায়ী চিকিৎসক নেই। একজন চিকিৎসক মাঝেমধ্যে এসে বসেন। সেদিন শুধু ওষুধ লিখে দিয়ে চলে যান। এলাকার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রায়গঞ্জে যেতে হয়। উত্তর দিনাজপুরের মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, চিকিৎসা পরিষেবা দেখব, না আবাসন সংস্কার করব। আবাসন সংস্কারের জন্য পূর্ত দপ্তর রয়েছে। তারাই সংস্কারের বিষয়টি দেখছে। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে যাতে মানুষ পরিষেবা পান, সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।