শুনানি না হওয়ায় জামিন হল না এনামুলের, ফের জেল হেফাজত

140

আসানসোল : আইনজীবী এজলাসে না আসায় সোমবার গোরু পাচার মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত এনামুল হকের মামলার কোনও শুনানি হলনা। ২০ ফেব্রুয়ারির নির্দেশ মতো আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়ের এজলাসে গরুপাচার কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত এনামুল হককে পেশ করা হয়েছিলো। কিন্তু তার পক্ষের আইনজীবি শেখর কুন্ডু গরহাজির ছিলেন। ফলে, এনামুল হকের জামিনের সওয়াল হয়নি। তবে, সিবিআইয়ের আইনজীবী এদিন বিচারকের কাছে, এই মামলায় কাস্টডি ট্রায়ালের দাবি করেন। এরপর বিচারক এনামুলের জামিন নাকচ করে দিয়ে তাকে ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১৫ মার্চ। সেদিন আবার এনামুলকে বিচারকের সামনে পেশ করা হবে। এনামুল হকের আইনজীবী শেখর কুন্ডু জানান, তিনি এদিন এজলাসে যাননি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি আসানসোল সিবিআই আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই৷ সিবিআইয়ের পেশ করা চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে পুরনো চারজনের সঙ্গে নতুন করে আরো তিনজনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এই গরু পাচারের মামলার অন্য এক অভিযুক্ত বিএসএফের কম্যান্ড্যান্ট সতীশ কুমারকেও সিবিআই গ্রেপ্তার করেছিলো।  আপাতত সতীশ কুমার জামিনে বাইরে আছেন। সোমবার জামিনের শর্ত মেনে আসানসোলের সিবিআই আদালতে হাজিরা দেন সতীশ কুমার। তাকে আবার আগামী ২৬ মার্চ আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়। এনামূল হক, সতীশ কুমার, গুলাম মুস্তাফা ও আনারুল শেখ সহ আরও তিনজনের নাম রয়েছে এই গরু পাচারের মামলায় আদালতে জমা দেওয়া সিবিআইয়ের চার্জশিটে। সেই তিনজন হলেন এনামুল হকের স্ত্রী ও সতীশ কুমারের স্ত্রী ও শ্বশুর।

- Advertisement -

উল্লেখ্য গত ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর আসানসোল বিশেষ সিবিআই আদালতে আত্মসমর্পন করেছিল এনামুল হক। তারপর থেকে সে জেল হেপাজতেই রয়েছে। ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া না হলে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার এনামুলের জামিন পাওয়া একবারে নিশ্চিত ছিল। সেই জামিন আটকাতেই ঠিক ৬০ দিনের মাথায়  আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। অন্যদিকে গোরু ও কয়লা পাচারের মামলায় তৃনমুল যুব কংগ্রেসের রাজ্য নেতা বিনয় মিশ্রকে ইতিমধ্যেই ফেরার ঘোষণা করেছে আসানসোলের সিবিআই আদালত। এই মর্মে সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নোটিশ জারি হয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বিনয় মিশ্রর বাড়িতে সেই নোটিশ লাগানোও হয়েছে। বিচারকের নির্দেশ মতো,  আগামী ২২ মার্চের মধ্যে বিনয় মিশ্রকে হাজিরা দিতে হবে। তা না হলে, তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।