হৃদরোগীরা অবশ্যই নিন করোনার ভ্যাকসিন

110

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রামিতদের হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অনেকেরই পোস্ট-কোভিড হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোভিড সংক্রামিত এবং হৃদরোগীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিলেন শিলিগুড়ির আনন্দলোক হসপিটালের চিফ কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ দেবব্রত বিশ্বাস

কোভিড পরিস্থিতিতে হৃদরোগীদের হাসপাতালে ভর্তি কমেছে। আপনার কী মত?
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, যেসব রোগী হৃদরোগে ভুগছেন, তাঁদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই কোভিড পরিস্থিতিতে হৃদরোগের কারণে সর্বাধিক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। কোভিড সংক্রামিতদের মধ্যে ২০ শতাংশের হার্ট অ্যাটাক বা রিদম সমস্যায় মৃত্যু হয়েছে। কোভিড সংক্রামিতের মৃত্যুর ক্ষেত্রে হৃদরোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কো-মরবিড কারণ। তাই এই পরিস্থিতিতে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হারও বেড়েছে। যেখানে কোভিড সংক্রামিতের হৃদরোগ থাকলে তার মৃত্যুর হার ১০ শতাংশ, সেখানে অন্যদের ক্ষেত্রে মাত্র ১.৫ শতাংশ।

- Advertisement -

কোভিডে হার্ট অ্যাটাক কেন বাড়ছে?
কোভিড সংক্রমণের কারণে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়েছে। তাই যদি কারও ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ থাকে, তাহলে তাঁর করোনারি ব্লকেরও উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোভিড ভাইরাসের কারণে মায়োকারডিটিস হয়ে থাকে, তাহলে অ্যারিথমিয়া হওয়ারও উচ্চ সম্ভাবনা থাকে।

যাঁদের কোভিডের উপসর্গ নেই, তাঁদেরও কি হার্ট অ্যাটাকের একই সম্ভাবনা রয়েছে?
উপসর্গহীনদের মধ্যে যাঁদের মাইনর করোনারি ব্লক রয়েছে, শুধু কোভিড সংক্রমণের কারণে তাঁদের সিভিয়ার করোনারি ব্লক, এমনকি কার্ডিয়াক ডেথও হতে পারে।

 কোভিড সেরে যাওয়ার পরও কি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়তে পারে?
ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, হৃদরোগে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২০ মিলিয়ন। এরমধ্যে ৮৫ শতাংশ মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। সাধারণত ধূমপান, ওবেসিটি, ডায়াবিটিস এবং শরীরচর্চার অভাব হৃদরোগের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। সেইসঙ্গে এখন কোভিডও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, যা আমরা বদলাতে পারি না। অতএব ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক অনেকাংশে বাড়বে।

একজন রোগী কী করে বুঝবেন, তাঁর হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে?
যদি কারও বুকে ব্যথা হয় বা অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট হয় বা প্যালপিটিশন বা ভার্টিগো হয়ে থাকে, তাহলে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কীভাবে হৃদরোগ শনাক্ত করবেন?
রোগ শনাক্তকরণের পদ্ধতি একই রয়েছে, কিন্তু ব্লকের তীব্রতা আরও বেশি। রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বৃদ্ধি ম্যাসিভ অ্যাটাক এমনকি হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হতে পারে। হৃদরোগ শনাক্ত করতে প্রয়োজন অনুসারে ইসিজি, ইকো, ট্রপ টি এবং অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করা উচিত।

কীভাবে একজন কোভিড সংক্রামিত হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে পারেন?
সঠিক প্রতিরোধ পদ্ধতি এখনও পর্যন্ত জানা নেই। তবে ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের ৭৫ মিলিগ্রামের অ্যাসপিরিন কিছুটা সাহায্য করতে পারে।

হৃদরোগীদের কি ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত?
উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের কথা মাথায় রেখেই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে। যাতে হৃদরোগী এবং কোমরবিডিটির রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার কমানো যায়, সেজন্য ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। এমনকি করোনা সংক্রমণ হলেও ভ্যাকসিন নিতে হবে।

যাঁদের ওপেন হার্ট বা বাইপাস সার্জারি হয়েছে, তাঁরা কী কী সাবধানতা মেনে চলবেন?
কোভিডের সব নিয়মই হৃদরোগীদের মানতে হবে। যেমন- মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং বাড়িতে থাকা ইত্যাদি।