দুর্বল মানঝা সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে ভারী গাড়ি

269

মহম্মদ হাসিম,  নকশালবাড়ি : নকশালবাড়িতে বেলগাছি চা বাগানে পূর্ত দপ্তরের তৈরি মানঝা সেতুটি বছরখানেক আগে দুর্বল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। রীতিমতো বোর্ড টাঙিয়ে ঘোষণা করা হলেও  এই নিষেধাজ্ঞাকে হেলায় উড়িয়ে মানঝা ও মেচি নদী থেকে বালি-পাথর বোঝাই ট্রাক, ডাম্পার ও বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন রোজ রাতের অন্ধকারে এই সেতুটির উপর দিয়ে যাতায়াত করছে বলে অভিযোগ। এর জেরে সেতুটির ক্ষতি হয়ে বড়োসড়ো বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। সমস্যা মেটাতে বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পূর্ত দপ্তরের শিলিগুড়ির এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার চন্দনকুমার ঝা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। দপ্তরের শিলিগুড়ির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গৌতম পাল অবশ্য বলেন, পুলিশ-প্রশাসনকে হাতে রেখে প্রতিদিন মানঝা সেতুর উপর দিয়ে ট্রাক বা ডাম্পারে করে প্রায় ১৫-১৬ টন বালি-পাথর পারাপার করা হয়। সেতুটিকে দুর্বল বলে ঘোষণা করে সেখানে একটি বোর্ড টাঙানো হলেও এই প্রবণতা কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। আসলে পুলিশের তোলাবাজি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। এলাকায় একটি নতুন সেতু তৈরির পরিকল্পনা আছে বলে গৌতমবাবু জানান। নকশালবাড়ি থানার ওসি সুজিত দাস অবশ্য বলেন, ১০ মাস হল এখানকার দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু সেতুর এই সমস্যার বিষয়ে পূর্ত দপ্তর আমাদের কিছুই জানায়নি। ওই দপ্তরের তরফে এবিষয়ে আমাদের অবগত করা হলে আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ করব।

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রের খবর, পূর্ত দপ্তর ১৯৯২ সালে নকশালবাড়ি ও মিরিক ব্লকের সীমান্তে মানঝা নদীর উপর এই সেতুটি তৈরি করে। এর ফলে নকশালবাড়ি ও মিরিক ব্লকের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ হয়। খড়িবাড়ি এলাকার পাশাপাশি নেপাল, বিহারের মতো জায়গার পণ্যবাহী গাড়িগুলিও পাহাড়ে যাতায়াতে নকশালবাড়ি হয়ে এই সেতুর উপর দিয়ে পূর্ত দপ্তরের সড়ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রায় বছরখানেক আগে পূর্ত দপ্তর এটিকে দুর্বল বলে ঘোষণা করে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাকে হেলায় উড়িয়ে দিনেরবেলায় সেতুটির উপর দিয়ে বিভিন্ন ভারী গাড়ির চলাচল বলে অভিযোগ। রাতের দিকে মানঝা ও মেচি নদী থেকে বালি-পাথর বোঝাই ট্রাক, ডাম্পার ও বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল সেতুটির বিপদ বাড়াচ্ছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন। সমস্যা মেটানোর জন্য তাঁরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।

স্থানীয় পঞ্চায়ে সদস্য জোয়াকিম কেরকেট্টা বলেন, মানঝা নদীর পাশেই একটি স্টোন ক্রাশার মেশিন থাকায় বিভিন্ন ডাম্পারের যাতায়াতের জেরে সেতুটির দুপাশের পাথরের বাঁধ ধসে পিলারগুলির নীচে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। ছয় মাস আগে পূর্ত দপ্তর থেকে সেতুটির পিলারগুলির নীচে সিমেন্ট ঢালাই করা হয়। দপ্তর সেতুটিকে বাঁচাতে চেষ্টা করলেও বেশকিছু পণ্যবাহী যানবাহন নিষেধাজ্ঞা না মেনে যাতায়াত করায় সমস্যা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রূপেশকুমার দুবে বলেন, নকশালবাড়িতে এশিয়ান হাইওয়েছে কোনো দুর্ঘটনা বা যানজট ঘটে থাকলে বিভিন্ন যানবাহন এই সেতুটির উপর দিয়ে যাতায়াত করে। এই প্রবণতাও সেতুটির বিপদ বাড়াচ্ছে।