একুশে টিকিট নাও পেতে পারেন হেভিওয়েটরা   

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : বাচ্চু হাঁসদা সহ একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক একুশের ভোটে টিকিট নাও পেতে পারেন। টিম পিকের সমীক্ষার পরে এমন জল্পনা শুরু হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার থৃণমূল শিবিরে। শুধু বাচ্চু হাঁসদা নয়, একাধিক আসনে এবার তৃণমূলের চমক দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার জেরে বর্তমান বিধায়ক বা হেভিওয়েটরা প্রত্যাশামতো প্রার্থীপদ নাও পেতে পারেন। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে তাই শাসক শিবিরেও নিজেদের মতো করে ঘর গোছাতে শুরু করেছেন প্রার্থীপদ প্রত্যাশীরা। তবে এই বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন দলের কোনও নেতত্ব।

শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিত্ব সহ অন্য একাধিক সরকারি পদ ছেড়ে দেওয়ার পর দক্ষিণ দিনাজপুরেও বিদ্রোহী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন দলের অনেক নেতাকর্মী। বহিষ্কার হয়ে থাকা নেতা-কর্মীরা যেমন প্রকাশ্যেই শুভেন্দুর সমর্থনে নেমে পড়েছেন, তেমনই দলের আবার অনেক নেতাকর্মী এবারে প্রকাশ্যেই দলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধাচারণ করতে শুরু করেছেন। অনেক নেতাকর্মী দলে থেকে কাজ করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভা নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সমীকরণও ততই বদল হতে শুরু করেছে।

- Advertisement -

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই জেলা তৃণমূল নেতত্বের মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা শুরু হয়েছে। প্রতিবছরই যেন নতুন সভাপতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এই জেলায়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জেলার সভাপতি ছিলেন বিপ্লব মিত্র। লোকসভায় হারের পর বিপ্লববাবুকে সরিয়ে সেই পদে আনা হয়েছিল অর্পিতা ঘোষকে। আবার চলতি বছরে অর্পিতা ঘোষকে সরিয়ে ওই জায়গায় আনা হয়েছে কংগ্রেস থেকে জেতা বিধায়ক গৌতম দাসকে। আপাতত গৌতমবাবুর নেতৃত্বেই জেলা তৃণমূল পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিপ্লববাবু ও অর্পিতা ঘোষ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই যেন বর্তমানে তৃণমূল চলছে। ইতিমধ্যেই বিপ্লববাবু দলে বেশ কিছু পরিবর্তন চেয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেগুলিতে দল এখনও আমল না দেওয়ায় বিপ্লববাবু অনেক দলীয় কর্মসূচি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

২০১১ সালে তৃণমূলের টিকিটে গঙ্গারামপুর থেকে জয় পাওয়া প্রাক্তন বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় ২০১৬ সালে ওই আসনে প্রার্থী হয়ে হেরে গিয়েছিলেন। ওই আসনে সত্যেনবাবুকে হারিয়ে দিয়ে জয় পাওয়া বাম-কংগ্রেসের প্রার্থী গৌতম দাস বর্তমানে তৃণমূলে এসে তিনি জেলা সভাপতি হয়ে গিয়েছেন। ওই আসনে গৌতমবাবুকেই এবারে তৃণমূল থেকে টিকিট দেওয়া হতে পারে। ফলে তৃণমূলের প্রার্থী বদল হওয়ার সম্ভাবনা দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সত্যেন রায়। তিনি বলেন, দল আমাকে যথাযথ ব্যবহার করছে না এবং যথেষ্ট সম্মানও দিচ্ছে না। এমনভাবে গুমরে থেকে দল করা সম্ভব হবে না। যদি খুব শীঘ্রই দল আমাকে কোনও সম্মান না দেয়, তাহলে অন্য কিছু ভাবতে বাধ্য হব। শুধু গঙ্গারামপুর নয়, হরিরামপুরে বিপ্লব মিত্র, বালুরঘাটে শংকর চক্রবর্তী এবং কুমারগঞ্জে বিধায়ক তোরাব হোসেন মণ্ডলকে এবার প্রার্থী করা হতে পারে। কিন্তু কুশমণ্ডিতে গতবারের প্রার্থী রেখা রায়কে সরিয়ে যুবনেতা অম্বরীশ সরকারকে প্রার্থী করা হতে পারে।

তপনে এবারে মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে পিকের সমীক্ষায় উঠে এসেছে। তপনের এক জেলা পরিষদ সদস্য বলেন, সম্প্রতি পিকের টিমের তরফে তপনের সমীক্ষায় তিনজন প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা করতে চেয়ে আমাদের কাছে ফোন এসেছে। বাচ্চুর বাড়ি সহ নানা বিষয়ে অভিযোগ গিয়েছে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। তবে দল শেষ পর্যন্ত বাচ্চুকে টিকিট দেবে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে এ বিষয়ে বাচ্চু হাঁসদার বক্তব্য, আমি তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী। নেত্রীর নির্দেশে দলের হয়ে কাজ করে যাচ্ছি ও আগামীদিনেও একইভাবে কাজ করে যাব। বাচ্চু হাঁসদার আসনে এবারে দলের কোর কমিটির অন্যতম সদস্য তথা প্রাক্তন জেলা পরিষদ সভাধিপতি তথা বর্তমানে সহকারী সভাধিপতি ললিতা টিগ্গার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূলের জেলা কোঅর্ডিনেটর সুভাষ চাকি বলেন, কারা কোন আসনে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে এখনও কিছু শুনিনি।