তিন আইনের গেরোয় আটকে কোচবিহারকে হেরিটেজ ঘোষণা

256

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : তিন আইনের গেরোয় আটকে গিয়েছে কোচবিহার শহর হেরিটেজ হওয়ার স্বপ্ন। রাজ্য বিধানসভায় তিনটি আইন পরিবর্তন করানোর পরই কোচবিহারকে হেরিটেজ ঘোষণা করার কথা ছিল রাজ্যের। প্রশাসন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে সেই কাজ হয়নি। এর কারণ অবশ্যই করোনা এবং লকডাউন। লকডাউনের ফলে অন্য সবকিছুর মতো বিধানসভা বন্ধ থাকায় আইন পরিবর্তন সহ হেরিটেজ নিয়ে অন্য কাজ বর্তমানে একপ্রকার বন্ধই রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়েস্টবেঙ্গল টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি অ্যাক্ট ১৯৭৯, ওয়েস্টবেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট ১৯৯৩ এবং ওয়েস্টবেঙ্গল হেরিটেজ কমিশন অ্যাক্ট ২০০১- কোচবিহার শহরকে হেরিটেজ করতে হলে এই তিনটি আইন পরিবর্তন করার দরকার। আইন পরিবর্তনের আগে যে অন্য কাজ করতে হয়, তিনটের মধ্যে দুটো আইনের ক্ষেত্রে সেই কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। একটি আইন পরিবর্তনের নোটিফিকেশনও জারি হয়। অন্য দুটি আইনের কাজও হচ্ছিল। সেই কাজ শেষ হলে একেবারে বিধানসভায় উঠত। কিন্তু বিধানসভা বন্ধ থাকায় আপাতত সমস্ত কাজই বন্ধ রয়েছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরই সবকিছু হবে। আর সেকারণেই কোচবিহার শহরকে হেরিটেজ ঘোষণার জন্য এখনও অপেক্ষা করতে হবে।

- Advertisement -

কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান অবশ্য সোমবার বলেন, হেরিটেজের কাজ বন্ধ নেই। প্রশাসন তাদের কাজ করছে। তবে আইন পরিবর্তন করা সহ অন্যান্য কাজ এবং ঘোষণা রাজ্য দেখছে। হেরিটেজের জন্য যে সমস্ত কাজ করতে হবে, যেমন সাগরদিঘি, বৈরাগীদিঘির সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হবে। ওই কাজের ডিপিআর তৈরি হয়েছে। কোচবিহার শহরে মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন যাওয়ার কাজ ও কানেকশন তৈরি প্রায় ৪০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন তৈরি হয়েছে। ১৫৫টি জায়গাকে হেরিটেজের তালিকায় স্থান দিয়ে তার তালিকা তৈরি সহ ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি, ডিস্ট্রিক্ট টুরিজম প্ল্যান তৈরি সহ সমস্ত কাজই সময় মেনে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৭ সালে কোচবিহারে এসে ঘোষণা করেছিলেন কোচবিহার ও নবদ্বীপ শহরকে হেরিটেজ শহর হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তারজন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় কাজ করার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। সেই থেকে কাজ চলছে। আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। একটি কমিটিও তৈরি হয়েছে।