নয়াদিল্লি, ৮ অগাস্টঃ কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যেই খবর মিলেছে, স্বাধীনতা দিবসের আগেই কাশ্মীর ও সাতটি রাজ্যে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে জইশ-ই-মহম্মদ। আর এই খবর পাওয়ার পরেই ভারতের ১৯টি বিমানবন্দরে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ‘দ্য বুরো অব সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি’ (বিসিএএস) প্রতিটি রাজ্যের পুলিশ কর্তা, সিআইএসএফ এবং প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলিকে সতর্ক করেছে। নিরাপত্তা বেড়েছে কলকাতা বিমানবন্দরেরও। কেন্দ্রের ওই নির্দেশিকায় শুধুমাত্র বিমানবন্দরই নয়, সতর্ক করা হয়েছে বায়ুসেনা ঘাঁটি, এয়ারস্ট্রিপ, এয়ারফিল্ড, হেলিপ্যাড, ফ্লাইং স্কুল, বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকেও।

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পুলওয়ামার মতো ঘটনা ফের ঘটতে পারে। এই মন্তব্যেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। কূটনৈতিক মহলের মতে, কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করার পর প্রবল চাপে পড়েছেন ইমরান। তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পাকিস্তানে। এই পরিস্থিতিতে নিজের মান বাঁচাতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করতে পারেন ইমরান। বুধবার মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদকে মুক্তি দিয়ে সেই বার্তাও দিয়ে রেখেছেন ইমরান। পাক প্রধানমন্ত্রী যখন পাকিস্তানের সংসদে পুলওয়ামার পুনরাবৃত্তি নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছিলেন, তখন জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের ভাই রউফ আজঘার হাজির ছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরে।

অন্যদিকে, বিমানবন্দরগুলির নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য কুড়িটি পদ্ধতি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে। বিমানবন্দরের প্রতিটি প্রবেশ পথে বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা। প্রবেশ পথে যাতে কোনও গাড়ি দাঁড়াতে না পারে, নির্দেশে তা-ও বলা হয়েছে। বিমানবন্দরের পার্কিং লটে দাঁড়ানো গাড়িগুলিকে যেতে হবে আরও কড়া চেকিংয়ের মধ্যে। বিমানে ওঠার আগে যাত্রী ও তাঁদের হ্যান্ডব্যাগগুলিকে যে যে পরীক্ষার মাধ্যমে যেতে হয়, তার মাত্রাও বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তিরা যে জায়গায় দাঁড়ান, সেখানকার নিরাপত্তাও বাড়ানো হচ্ছে।