হলদিবাড়িতে রেলপথের কাজ দেখলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার

3575

হলদিবাড়ি: প্রস্তাবিত রেলপথের পাশাপাশি প্রায় পাঁচ দশকের অধিক সময় ধরে বন্ধ হয়ে থাকা হলদিবাড়ি-চিলাহাটি স্থলবন্দর চালুর সম্ভাবনার কথা জানালেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। মঙ্গলবার দুপুরে নির্মিয়মান হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথের উদ্বোধনের প্রাগমুহূর্তে নব-নির্মিত রেলরুট সহ প্রতিবেশী দুই দেশের রেলপথ সহ রেলের যাবতীয় অবকাঠামো পরিদর্শনে সস্ত্রীক হলদিবাড়িতে আসেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ ইমরান ও তাঁর সচিব জাকির আহম্মেদ। এদিন শিলিগুড়ি থেকে সড়ক পথে হলদিবাড়ি স্টেশনে এসে পৌঁছন তিনি। স্টেশনে প্রবেশের মুখে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এডিআরএম সুরেশকুমার শর্মা। উপস্থিত আধিকারিকদের নিয়ে স্টেশন চত্বরটি ঘুরে দেখেন। তারপর রেলের বিশেষ ট্রলি করে সীমান্তে পৌঁছান তাঁরা। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত বিএসএফ ও রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করেন।

উপস্থিত ছিলেন কমিশনারের স্ত্রী জাকিয়া হাসনাদ, বিএসএফের ডিআইজি (জি) রাজীবরঞ্জন শর্মা কদমতলা, ডিআইজি সেকটর রাধাবাড়ি শ্রী পরশুরাম, ৬৫ নাম্বার ব্যাটালিয়নের টুআইসি জগদীশ ধবই, ডেপুটি কমিশনার কাস্টমস নবনীত কুমার। বাংলাদেশের তরফে বর্ডার গার্ড অফ বাংলাদেশের ৫৬ ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মামনুল হক, পশ্চিমাঞ্চল রেলের চিলাহাটি রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আবদুর রহীম প্রমুখ। এরপর নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ থেকে আসা বিশেষ গ্যাংকার ট্রলিতে চিলাহাটি স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিকেলে সীমান্ত পেরিয়ে একই পথে হলদিবাড়ি হয়ে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।

- Advertisement -

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে খবর, হলদিবাড়ি-চিলাহাটি নবনির্মিত রেলপথের উদ্বোধনের প্রাগমুহূর্তে শেষ পর্যায়ে কাজ ও নিরাপত্তা বিষয় খতিয়ে দেখতে হলদিবাড়ি ও চিলাহাটি পরিদর্শন করতেই এদিনের এই পরিদর্শন। হাইকমিশনার মহম্মদ ইমরান বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার সঙ্গে বাংলাদেশের আত্মিক সম্পর্ক। এই রেলরুটের মাধ্যমে যা আরও গভীর হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের (পূর্বোক্তর ভারত) সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন সুবিধায় দুই দেশের চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি ১৬ ডিসেম্বর পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের শুভ উদ্বোধন করবেন। এতে উভয় দেশ উপকৃত হবে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়বে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আরও উন্নয়ন হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিতকরণ সহ সীমান্তবর্তী সব ধরনের সমস্যা-সম্ভাবনা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও স্থলবন্দরগুলো পরিদর্শন করছি। সংগৃহীত তথ্য দুই দেশের সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। চিলাহাটি রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি বিকালে পুনরায় একই পথে ভারতে ফিরে আসেন। বুধবার চ্যাংরাবান্ধা-বুড়িমারী স্থলবন্দর পরিদর্শন করবেন তিনি। প্রায় ৫৫ বছর পর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেকার আন্তর্জাতিক চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ আবারও চালু হচ্ছে। প্রথমে মালবাহী গাড়ি চালানো হলেও পরবর্তীতে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। পুরাতন এই রেল রুটটি ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায়।