অপহৃত কিশোরী উদ্ধার, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

কুমারগ্রাম: অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল কুমারগ্রাম থানার পুলিশ। মঙ্গলবার মাস দেড়েক পর নিখোঁজ মেয়েকে কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন মা। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি। কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে অপহরণের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত যুবককে। মঙ্গলবার ধৃতকে আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ।

ওই কিশোরীর বাবা-মা জানান, ২০ মার্চ তাঁর ১৫ বছরের মেয়ে টিউশন পড়তে যায়। তারপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। বহু খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের হদিশ না মেলায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর কিছুদিন পর আচমকাই একদিন একটি অজানা নম্বর থেকে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। সেটাও  পুলিশকে জানানো হয়। এরপর ওই অজানা ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং শেষপর্যন্ত সফলতা মেলে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ঘাপটি মেরে থাকা অপহরণ কান্ডের মূল পান্ডা বছর ছাব্বিশের বিশাল পাসোয়ানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিশোরীর বাবা ধৃত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ।

- Advertisement -

এব্যাপারে আলিপুরদুয়ারের এসডিপিও মহম্মদ কুতুবউদ্দিন খান বলেন, ২১ মার্চ কুমারগ্রাম থানার বারবিশা পুলিশ আউটপোস্টে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সেইমতন তদন্ত চলছিল৷ দু লক্ষ টাকা চেয়ে নাবালিকার বাড়িতে মুক্তিপণের ফোন আসার পর বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নেয়। আমরা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানায় যোগাযোগ করি। সেখানে অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকান্ডে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের নাম বিশাল পাসোয়ান। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ওই যুবক পেশায় গাড়িচালক। এদিন ধৃতকে আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। মেয়েটিকে অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সিডাব্লিউসি এবং চাইল্ডলাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা সবকিছু খতিয়ে দেখে অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন।

কিশোরী মা জানান, পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মেয়েকে আপতত কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।