উত্তর কাশ্মীরে ফের সক্রিয় হিজবুল, সতর্ক সেনা-পুলিশ

336

শ্রীনগর : কাশ্মীরের উত্তরের জেলাগুলিতে হিজবুল মুজাহিদিন প্রভাব বাড়ানোর আভাস পাচ্ছে সেনাবাহিনী। একসময় এই এলাকা জঙ্গি সংগঠনটির শক্তঘাঁটি ছিল। গত কয়েক বছরে যৌথবাহিনীর অভিযানে সেখানে হিজবুলের প্রভাব তলানিতে ঠেকেছিল। সম্প্রতি তাদের সক্রিয়তা ফের বেড়েছে। শুক্রবার বারামুল্লা জেলার পট্টনের ইয়েদিপোরায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩ জঙ্গি নিহত হওয়ার পর সেই সক্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে। নিহতরা সকলে হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য বলে পুলিশ ও সেনার তরফে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিককালে কাশ্মীরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে হিজবুল জঙ্গিদের সংঘর্ষ নজিরবিহীন। শনিবার পট্টনে উত্তর কাশ্মীরের ডেপুটি ইনস্পেকটর জেনারেল (ডিআইজি) মহম্মদ সুলেমান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন সেনার রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ১০ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এনকে মিশ্র। তিনি জানান, যে এলাকায় হিজবুল জঙ্গিদের মৃত্যু হয়েছে, গত কয়েবছর যাবৎ সেখানে লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদ সক্রিয় রয়েছে। হিজবুলের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। সামগ্রিকভাবে উত্তর কাশ্মীরে হিজবুলের উপস্থিতি নামমাত্র। ইদানীং তারা উত্তরের জেলাগুলিতে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে। হিজবুল জঙ্গিরা সেখানে ঘাঁটি তৈরি করতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে। নিরাপত্তাবাহিনী সতর্ক থাকায় হিজবুলের পরিকল্পনা সফল হবে না বলে মিশ্র জানান।

ডিআইজি সুলেমান চৌধুরী বলেন, ৩ সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে ২ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তাদের একজন শাফাকত আলি খান রাওয়াতপোরার বাসিন্দা। দ্বিতীয় জনের নাম হানান বিলাল সোফি। তার বাড়ি বারামুল্লায়। তৃতীয় জনের পরিচয় জানা যায়নি। মৃতদের কাছ থেকে ২টি একে ৪৭ রাইফেল, একটি পিস্তল ও কিছু ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। কাশ্মীরে হিজবুলের সক্রিয়তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উপত্যকায় সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে একমাত্র হিজবুলই মূলত কাশ্মীরি জঙ্গিদের নিয়ে তৈরি হয়েছে। লস্কর ও জইশ পুরোপুরি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন। পাকিস্তান থেকেই ওই ২টি সংগঠন সদস্য ও রসদ সংগ্রহ করে। হিজবুল নেতারা পাকিস্তানে বসে সংগঠন পরিচালনা করলেও উপত্যকার যুবকদের দলে টানার দিকে নজর দেয়। কৌশলগত কারণেই তাই পাক সেনা ও আইএসআই তাদের সক্রিয় করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

- Advertisement -

ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের ধূসর তালিকায় থাকা পাকিস্তানের ওপর সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ ক্রমশ চেপে বসছে। এই পরিস্থিতিতে উপত্যকায় জঙ্গি সক্রিয়তাকে কাশ্মীরিদের নিজস্ব আন্দোলন প্রমাণ করতে মরিয়া পাকিস্তান হিজবুলকে সক্রিয় করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কাশ্মীরে হিজবুলের সক্রিয়তা বাড়ানোর প্রমাণ শনিবারও পাওয়া গিয়েছে। এদিন বান্দিপোরা জেলায় কিষেনগঙ্গা নদীতে ২ জন হিজবুল জঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর, দেহগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ভেসে এপারে এসেছে। তারা সম্ভবত নদীপথে উপত্যকায় ঢোকার চেষ্টা করছিল। নিহতদের নাম সমীর আহমেদ ভাট ও নিসার আহমেদ রাঠের। দুজনেই পুলওয়ামা জেলার বাসিন্দা। এদিন কুপওয়ারাতেও যৌথবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে। এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফ।