ইয়াবা পাচারের করিডর সীমান্ত ঘেঁষা হিলি

202

বিধান ঘোষ, হিলি : গাঁজা, কাফ সিরাপের পর এবার ইয়াবা পাচারের করিডর হয়েছে হিলির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইয়াবার রমরমা কারবার শুরু হয়েছে। মায়ানমারের ইয়াবার বদলে এখন লোকাল মেড ইয়াবার চাহিদা বেশি। এমনই তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। এমন তথ্য পেয়ে চক্ষুচড়কগাছ গোয়েন্দাদের।

গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, করোনার কারণে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের দাম অনেক বেড়েছে। প্রতি বোতল কাফ সিরাপের দাম এখন প্রায় দেড় হাজার টাকা। চাহিদার তুলনায় এখন জোগানে ঘাটতি রয়েছে। তাই চাহিদা বেড়েছে ইয়াবা ট্যাবলেটের। পাচারের জন্যও ইয়াবা সুবিধেজনক। সামান্য জায়গায় হাজার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট অনায়াসে বহন করা যায়। তাই অন্য জিনিসের থেকে ইয়াবা পাচারে সুবিধে থাকায় কারবারিরা সেদিকেই ঝুঁকে পড়েছে। হিলির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় সব এলাকা দিয়ে এই কারবার শুরু হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

- Advertisement -

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, হিলিতে যে ইয়াবার কারবার সবচেয়ে বেশি চলছে তা হল লোকাল মেড। এই ইয়াবা ট্যাবলেট মূলত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় তৈরি হচ্ছে। এরপর ইয়াবার ২০০টি করে ট্যাবলেটের ছোট প্যাকেট করা হচ্ছে। তারপর কয়েকটি প্যাকেটকে একসঙ্গে করে পার্সেলের মতো করা হচ্ছে। এরপর অন্তর্বাস সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে সীমান্তে নিয়ে আসা হচ্ছে। সীমান্তে টাইগার নামে ইয়াবার দাম ধার্য হচ্ছে প্রতি ট্যাবলেট ২৫ টাকা। লাল ইয়াবার দাম ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে ও সাদা ফুটো ইয়াবার দাম প্রায় ৭০ টাকা। তবে মায়ানমার থেকে আসা ইয়াবা ট্যাবলেটের দাম বেশি। ইয়াবার আন্তর্জাতিক কালোবাজার মূল্য প্রতি ট্যাবলেট ৫০০ টাকা। ইয়াবা আদপে মেথঅ্যাম্ফিটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রন। কখনও কখনও ইয়াবায় হেরোইন মেশানো হয়ে থাকে। কিন্তু লোকাল মেড ইয়াবা বিভিন্ন রকমের পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক। এই ইয়াবা খেলে মানুষ দ্রুত মৃত্যুর কবলেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা গোয়েন্দাদের। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারে এখন মহিলাদের নিয়োগ করছে কারবারিরা। মহিলাদের দিয়ে মুর্শিদাবাদ ও মালদা থেকে সীমান্তে ইয়াবা নিয়ে আসা হচ্ছে। ইয়াবা ক্যারিয়ারদের সহজে চিহ্নিত করাও মুশকিল হয়ে পড়ছে। অন্য জেলা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট প্রধানত গঙ্গারামপুর, পতিরাম, বালুরঘাটের বিভিন্ন ঠিকানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তারপর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পেঁছে যাচ্ছে এর ছোট ছোট প্যাকেট। হিলির ত্রিমোহিনী সহ বেশ কিছু এলাকাকে পিন পয়েন্ট করেছে কারবারিরা। সেসব জায়গা দিয়ে এই মাদকের রমরমা কারবার চলছে। গোয়েন্দারা এই মাদক কারবারে হিলির বেশ কয়েজন কারবারির ওপর কড়া নজর রেখেছেন বলেও জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিকের কথায়, করোনা সংক্রমণের কারণে আন্তঃরাজ্য পরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। কাফ সিরাপের অবৈধ ঘাঁটিগুলিতেও টান পড়েছে। সীমান্তে ব্যাপকভাবে কাফ সিরাপের দাম বেড়েছে। ফলে বড় অংশের অসাধু ব্যবসায়ীরা ইয়াবার ব্যবসায় ঝুঁকেছে। এই মুহূর্তে সীমান্ত এলাকায় ইয়াবার রমরমা কারবার চলছে।