সার্ভিস রোড দখল হওয়ায় যানজট বাড়ছে হিলকার্ট রোডে

295

শিলিগুড়ি : রাস্তায় বরো অফিস সহ একাধিক প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। এমনকি ট্রাফিক পুলিশ আধিকারিকদের অফিসও এই রাস্তার ধারে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তায় তিনটি মোড়ে সবসময় ট্রাফিক কর্মীদের মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। রয়েছে ট্রাফিক বুথ। গুরুত্বপূর্ণ তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসও এই রাস্তায়। প্রথম মহানন্দা সেতুর পর থেকে মাল্লাগুড়ি পর্যন্ত এই হিলকার্ট রোড ও তার সঙ্গে লাগানো সার্ভিস রোড এখন অবৈধভাবে দখল হযে রয়েছে। শুধু প্রধাননগর থানা সংলগ্ন এলাকায় নয়, গোটা রাস্তার দু-ধারে এই অবৈধ দখল চললেও কারও নজর নেই। এমনকি অবৈধ দখলদারির জেরে এলাকার বিভিন্ন মোড়ে থাকা ট্রাফিক বুথগুলির দু-পাশ দখল হয়ে গিয়েছে। শুধু বাস নয়, মোড়গুলিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা দখল করে টোটো, সিটি অটো দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনও মাথাব্যথা দেখা যায় না। এনিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ।

প্রথম মহানন্দা সেতুর পর থেকে মাল্লাগুড়ি পর্যন্ত হিলকার্ট রোড ও তার সঙ্গে লাগানো সার্ভিস রোডে মৈনাক টুরিস্ট লজ, শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস থাকায় সব সময় এই রাস্তা দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। প্রথম মহানন্দা সেতু পেরিয়ে মাল্লাগুড়ি যাওয়ার অংশে গুরুংবস্তি মোড় সংলগ্ন এলাকায় দোকানগুলি ফুটপাথ দখল করে জিনিসপত্র সাজিয়ে রেখেছে। দোকানদারকে প্রশ্ন করলে তাঁর দাবি, জায়গা খালি রয়েছে, তাই জিনিসপত্র দোকানের বাইরে বার করে রেখেছি। কিছুটা আগে থাকা ট্রাফিক বুথের অবস্থা আরও কঠিন। বুথে সবসমযে ট্রাফিক কর্মীদের আনাগোনা চললেও দুইপাশ অবৈধ দখল হযে রয়েছে। ওই রাস্তা দিযে সোজা গেলে পড়বে জংশন মোড়। ওই এলাকায় থাকা ট্রান্সমিটারটিও কিন্তু দখলদারদের হাত থেকে বাঁচেনি। বিপজ্জনকভাবে দোকান কেন ? সন্তোষ শাহ নামে এক দোকানদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ভয়ের কোনও কারণ নেই। সামনেই বাস এসে দাঁড়ানোয় ব্যবসা ভালো চলছে।’ জংশন মোড়ের উলটোদিকের পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে তো ত্রিপল খাটিযে গ্যাসের উনুনে হোটেলের রান্না চলছে। সাধারণ মানুষের কথায়, যেখানে ১ নম্বর বরো অফিসের নীচেই ফুটপাথ দখল করে চেয়ার, টেবিল বসিযে দোকান চালানো হচ্ছে, সেখানে জংশন মোড়ে ত্রিপল খাটিযে হোটেল গজিয়ে ওঠাস্বাভাবিক ব্যাপার। শুধু ওই রাস্তা নয়, সার্ভিস রোডে নিকাশিনালার উপর স্ল্যাব বসিযে হোটেল চলার বিষয়টি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।

- Advertisement -

যানজটে আটকে থাকা শহরের বাসিন্দা অশোক সরকার বলেন, রাস্তা অব্দি দোকান চলে আসা, যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার জেরে আমাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। প্রশাসন চোখের সামনে সবকিছু দেখলেও কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেয় না। মাঝেমধ্যে নামমাত্র অভিযান চললে তো এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। অশোক সরকারের মতোই শহরের আরেক বাসিন্দা মলয় দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে ওঠেন, ‘শহরে ঢোকার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই রাস্তা। বহু হোটেলও রয়েছে। যেভাবে দখলদারি চলছে তাতে রাস্তা দখল শুরু হয়েছে, কিছুদিন পর পুরো রাস্তা দখল হযে যাবে। এরমধ্যেই টোটো, সিটি অটো তো রয়েছেই।’

পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতো বলেন, ‘আমরা প্রায়শই অভিযান চালাচ্ছি। অভিযানের মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।’ শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (ট্রাফিক) ডম্বর সিং সোনার বলেন, ‘আমরা সব সমস্যারই ধীরে ধীরে সমাধান করছি।’

ছবি- সার্ভিস রোডে পার্কিং।

তথ্য ও ছবি- শমিদীপ দত্ত