পর্যটকশূন্য পাহাড়ে খাঁখাঁ করছে হোটেল, ক্ষোভ ব্যবসায়ীদের

429

শিলিগুড়ি : এক পাহাড়ে তিনদিনে প্রাপ্তি শূন্য, প্রতিবেশী পাহাড় চারদিনেও শূন্যর গেরো কাটাতে পারেনি। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পাহাড়েই ক্ষোভ বাড়ছে। রাস্তা বন্ধ রেখে হোটেল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসংগত, তা নিযে সিকিম এবং দার্জিলিংয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু রাস্তা বন্ধ রাখা নয়, ভিনরাজ্য থেকে কেউ এলে ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকার পরই যে হোটেলে প্রবেশের ছাড়পত্র মিলবে, সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। ফলে পর্যটকহীন পাহাড়ে হোটেল খোলা রেখে তাঁদের ক্ষতির বহর কেন বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে হোটেল মালিকরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। প্রশাসনিক কর্তারা অবশ্য বলছেন, কোভিড-১৯ এর বাড়বাড়ন্ত রুখতেই রাস্তায় নজরদারি এবং হোম কোয়ারান্টিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পাহাড়ে হোটেলের দরজা খুলেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দার্জিলিং এবং সিকিমে একজন পর্যটকও পা রাখেননি। দূরদূরান্তের কিছু পর্যটক আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাঁরা সরকারি বিধিনিষেধ জানতে পারার পর পিছিয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে ৯ জুন দার্জিলিং পাহাড়ে হোটেল খুলেছে। সিকিম প্রশাসনের সিদ্ধান্তে গ্যাংটক সহ বাকি অংশে ১০ জুন হোটেলের দরজা খুলেছে। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত কোথাও কোনও হোটেলে একজন বোর্ডার থাকেননি। এর পিছনেও রয়েছে দুই রাজ্যের একই সিদ্ধান্ত। দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ বাড়তেই বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে দার্জিলিংযে রোহিণী এবং সিকিমের রংপুতে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। বাইরের কোনও গাড়ি বা ভিনরাজ্যের বাসিন্দার দেখা মিললেই ফেরত পাঠিযে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীযদের প্রবেশে ছাড়পত্র মিললেও সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত করার পাশাপাশি গাড়ি স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। পর্যযটকদের ওপর যেখানে পাহাড়ের হোটেল ব্যবসা নির্ভরশীল, সেখানে বহিরাগতদের আটকানো হলে কারা হোটেলে থাকবেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। এই অবস্থায কেন হোটেল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হোটেল মালিকরা। দার্জিলিং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিযেনের সম্পাদক বিনোদ খান্না বলেন, ‘চারদিনে একজনও বোর্ডার পাইনি। কিন্তু হোটেল খোলা রাখতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে দিন দিন আমাদের ক্ষতি বাড়ছে। এভাবে কতদিন চালাতে পারব জানি না।’ সিকিমের বিশিষ্ট হোটেল ব্যবসাযী অভিজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, ‘স্থানীযদের ওপর নির্ভর করে কখনও হোটেল চলতে পারে না। কিন্তু পর্যটকদের তো ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে জানি না।’

- Advertisement -

হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড টুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘আনলকে টুরিজমের জন্য নির্দিষ্টভাবে রূপরেখা তৈরি করা প্রযোজন। সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় পর্যটনশিল্পকে খাদের থেকে তুলে আনা অসম্ভব।’

দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, রাস্তায় নজরদারি এবং হোম কোয়ারান্টিনের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নেওয়া হয়েছে।

তথ্য- সানি সরকার