করোনাকে জব্দ করতে পাহাড়ি গ্রামে ভরসা তিতেপাতি

223

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : স্থানীয় নাম তিতেপাতি। উদ্ভিদবিদ্যার বইয়ে আর্টেমিসিয়া। বহুগুণ সম্পন্ন। তথ্য বলছে, নানা ধরনের রোগব্যাধির উপশমে ভরসা এই গুল্মই ম্যালেরিয়া প্রতিরোধকও বটে। ডুয়ার্সের বেশ কয়েক জায়গায় চোখে পড়া এই পাহাড়ি গুল্মে কি রয়েছে করোনা-ভাগাওয়ের দাওয়াইও? বছর দেড়েক ধরে আমাদের নাজেহাল করা ভাইরাসকে জব্দ করতে বিজ্ঞানীরা তিতেপাতির ওপর বর্তমানে অনেকটাই ভরসা করছেন। চলছে জোরদার পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডঃ সুভাষচন্দ্র রায় বলেন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশেই আর্টেমিসিয়া দেখা যায়। গাছটি থেকে তৈরি ওষুধের যে ম্যালেরিয়াকে জব্দ করার ক্ষমতা রয়েছে তা প্রমাণিত। এর মধ্যে ভাইরাস-প্রতিরোধী ক্ষমতা থাকাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। মনে রাখতে হবে, যত ওষুধ তৈরি হয় তার ৭০ শতাংশেই নানা গাছ-গাছালির অবদান রয়েছে।

- Advertisement -

ডুয়ার্স লাগোয়া পাহাড়ি এলাকায় একটু চোখ মেললেই তিতেপাতির দেখা মিলবে। বাসিন্দারা এটিকে জীবাণুনাশক হিসাবে ব্যবহার করেন। পাশাপাশি এটি তাঁদের জীবনের নানা সংস্কারের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নানা রোগব্যাধি তাড়ানোর ভরসা এই গুল্মে করোনা ভাইরাসকে জব্দ করার উপাদান রয়েছে কি না তা নিয়ে জোরদার অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। করোনার দাওয়াই হিসাবে ইতিমধ্যেই আফ্রিকার বহু দেশ এই গুল্মকে ব্যবহার করছে। যদিও তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র স্বীকৃতি পায়নি। গত এপ্রিলে মাদাগাস্কার আর্টিমিসিয়াকে করোনা প্রতিরোধী হিসাবে ঘোষণাও করে। হু তাতেও সায় দেয়নি। তবে জার্মানি ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গে করোনার নতুন স্ট্রেনের ওপর আর্টেমিসিয়ার প্রভাব নিয়ে যৌথভাবে গবেষণা চালাচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও গবেষণাগারভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। আর্টেমিসিয়ার করোনা প্রতিরোধী গুণের খোঁজ চালাচ্ছে চিনও। দুই হাজার বছর ধরে সেখানে এই গাছের ব্যবহার। জ্বর, গায়ে ব্যথা সহ নানা রোগের উপশমে এই গুল্ম নাকি অপ্রতিরোধ্য। আর্টিমিসিয়াকে ব্যবহার করে তৈরি ম্যালেরিয়ার ওষুধ আবিষ্কারের জন্য ২০১৫ সালে সেখানকার বাসিন্দা ইউইউ টু নামে এক বিজ্ঞানী নোবেলও জেতেন।

গরুবাথান ব্লকের ঝান্ডি এলাকার মধ্য সত্তরের দাওয়া তেনজি শেরপা বলছেন, জন্ম থেকেই বাড়িতে তিতেপাতির ব্যবহার দেখছি। এটা করোনার ওষুধ কি না জানি না। তবে জ্বর, শরীর ব্যথা, নাক থেকে রক্ত পড়া, চুলকানি সবকিছুতে এটাই আমাদের ভরসা। নয়তো এখানে এত ওষুধ পাব কোথায়? সত্তরোর্ধ্ব হরকাবাহাদুর রাই নামে পাহাড়েরই আরেক বাসিন্দার কথায়, শিশুর যত্ন, পোকামাকড় দমনেও এটা ব্যবহার করি। শরীরকে শুদ্ধ করতে তিতেপাতি ভেজানো জল দিয়ে স্নান করা এখানকার স্বাভাবিক ঘটনা। করোনাকালে তো ওটার রস হাতেও মাখছি। সমতলের বাসিন্দা রাজেন প্রধান পাহাড়ে পর্যটনের ব্যবসা করেন। তিনি বলছেন, এই গাছের পাতা খুব তেতো। বাসিন্দারা এই গাছের পাতা ছিঁড়ে চিরতার জলের মতো ব্যবহার করেন। উপকার পান বলেও জানিয়েছেন। এটি যদি করোনার প্রতিষেধক হিসাবে প্রমাণিত হয় তবে বহু মানুষ উপকৃত হবে।