হটাৎ টোকিওর টিকিট পাওয়ার দৌড়ে হিমাশ্রীরা

শিলাজিৎ সরকার, কলকাতা : হটাৎ করেই টোকিওর টিকিট পাওয়ার দৌড়ে ধূপগুড়ির হিমাশ্রী রায়। ৪x১০০ মিটার রিলে দলের সদস্য হিসেবে অলিম্পিকে যেতে পারেন তিনি।

জাতীয় দলে হিমাশ্রী ছাড়াও আছেন দ্যুতি চাঁদ, হিমা দাস, এস ধনলক্ষ্মী, অর্চনা সুসেন্দ্রন ও এটি ধনেশ্বরী। করোনার জন্য মে মাসে পোল্যান্ডে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স রিলেতে যেতে পারেননি। দেশে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় বিদেশে আরও কয়েকটি ইভেন্টে লড়াইয়ে সুযোগ হাতছাড়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশেই আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করতে চাইছে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। সেইমতো ২১ জুন ইন্ডিয়ান গ্রাঁ প্রি এবং ২৫ জুন থেকে আন্তঃরাজ্য মিটে প্রতিবেশী দেশগুলির অ্যাথলিটদের ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যে অ্যাথলিট পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

- Advertisement -

অপ্রত্যাশিতভাবে ফের দরজা খোলার সম্ভাবনায় খুশি হিমাশ্রীরা। ফেডারেশনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, আমরা এতদিন পরিবার থেকে দূরে রয়েছি। পোল্যান্ডে যেতে পারলে ভালো হত। হয়তো সেখানেই অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন করে ফেলতাম। কিন্তু করোনার জন্য একটার পর একটা দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এটাই আমাদের শেষ সুযোগ। এটা হাতছাড়া হলে সব পরিশ্রম জলে যাবে। হিমাশ্রী জানালেন, সময়ে বিচারে সেরা ১৬ দল টোকিওয় নামবে। এরমধ্যে ৮ দল আগেই টিকিট পেয়েছে। বাকি দল পোল্যান্ডের ইভেন্ট থেকে সুযোগ পাবে। কিন্তু সেখানে দলগুলির টাইমিং খুব একটা ভালো না হওয়ায় ভারতের এখনও সুযোগ আছে। তাঁর কথায়, আমরা এখন ২২ নম্বরে আছি। আমাদের প্রথম ১৬-য় আসতে হবে। এজন্য এই দুই ইভেন্টে আমাদের ৪৩ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করতে হবে।

পাতিয়ালার গরমের জন্য হিমাশ্রীদের অনুশীলনের সূচিতেও পরিবর্তন এসেছে। বললেন, এখানে সকালের পর তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই আমরা ভোর সাড়ে ছটা থেকে ৯টা পর্যন্ত অনুশীলন করছি। আবার বিকেলের পর ট্র‌্যাকে যাচ্ছি। দলের পারফরমেন্স প্রসঙ্গে আশাবাদী হিমাশ্রী, পাঁচ বছর আগের তুলনায় এখন দল বেশি শক্তিশালী। ফলে টোকিও যাওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। ওয়ার্ল্ড রিলেতে যেতে পারলে আমি নিশ্চিত যে যোগ্যতা পেয়ে যেতাম। কিন্তু করোনার জন্য কোথাও দৌড়ানোর সুযোগই পেলাম না। এ বছরটা এত খারাপ যাচ্ছে বলার মতো না। প্রতিযোগিতায় না নামতে পারলে যোগ্যতা অর্জন করব কীভাবে। তাই এই দুই ইভেন্ট নিয়ে ফেডারেশন বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছে।

২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে পাতিয়ালার ক্যাম্পে আছেন। গত বছরের শেষদিকে অফিসের কাজে কয়েকদিন কলতাকায় এসেছিলেন। সেসময় একদিনের জন্য ধূপগুড়ির বাড়িতে যান। ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে স্মার্টফোনই ভরসা। পাশাপাশি কথা বলেন স্থানীয় কোচ হরিদাস রায় ওরফে রানার সঙ্গে। হিমাশ্রীর কথায়, রানাস্যর না হলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না। স্যরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। সবসময় আমাকে মোটিভেট করেন। পরিবারের মতো স্যরেরও আশা, হিমাশ্রী টোকিও যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

একটা সুযোগকেই পাখির চোখ করছেন ধূপগুড়ির হিমাশ্রীও।