জেলা সভাপতি বদল হলে বিদ্রোহের ইঙ্গিত জলপাইগুড়িতে

জলপাইগুড়ি ব্যুরো : তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সভাপতি পদে বদলের সম্ভাবনায় দলের ভিতর কোন্দল মাথাচাড়া দিচ্ছে। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে বসছেন কিষান কল্যাণী, এমন খবর ছড়াতেই বড়োসড়ো ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে জেলার সংগঠনে। এই পরিস্থিতিতে জেলা তৃণমূলের ১৫টি সাংগঠনিক ব্লক কমিটির সভাপতিদের মধ্যে ১৪ জন শুক্রবার নাগরাকাটায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। এলাকার একটি বেসরকারি রিসর্টে সন্ধ্যা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক চলে।

বৈঠকের পর অবশ্য কোনো ব্লক সভাপতিই মুখ খুলতে চাননি। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, জেলা সভাপতি বদলের ইশ্যুতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই বৈঠকের নির্যাস এবং ব্লক সভাপতিদের বক্তব্য ই-মেল করে পাঠানো হয়েছে। ঠিক সময়ে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে দলীয় নেতাদের একাংশ মন্তব্য করেছেন। তৃণমূলের রাজ্য কমিটি বা শীর্ষ নেতৃত্বের তরফেও অবশ্য এখনও জেলা সভাপতি পদে বদল হচ্ছে কিনা বা বদল হলে নতুন সভাপতি কে হচ্ছেন সেসব কিছুই জানানো হয়নি। তবে তৃণমূলের ব্লক কমিটির শীর্ষ নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, এমনটা যদি হয় তবে তাঁরাও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী, সেটা অবশ্য খোলসা করে বলতে চাইছেন না তাঁরা।

- Advertisement -

সাধারণত জেলা কমিটির সভাপতি পদে পরিবর্তন হলে পরবর্তী স্তরের কমিটিগুলোতেও পরিবর্তনের রেওয়াজ রয়েছে। নিজেদের কাছের লোককেই সাধারণত জেলা সভাপতিরা ব্লক সভাপতির পদে বসান। বর্তমানে যাঁরা ব্লক কমিটির সভাপতির পদে রয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমান জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সেক্ষেত্রে সৌরভকে সরিয়ে কিষান কল্যাণী বা অন্য কোনো নেতা জেলা সভাপতি হলে জেলা সংগঠনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যেকেই ব্লকগুলিতে অনুগতদের ক্ষমতায় আনবেন। সেক্ষেত্রে এখনকার ব্লক সভাপতিদের অনেককেই পদ থেকে সরে যেতে হতে পারে। তেমনই আশঙ্কায় এদিনের বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে এবং এর ফলে জেলা তৃণমূলে আড়াআড়ি বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীকে এদিনের বৈঠকের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। তবে, জলপাইগুড়ি সদর ২ নম্বর ব্লক সভাপতি নিতাই কর বলেন, নতুন কেউ জেলা সভাপতি হলে ১৫টি সাংগঠনিক ব্লক কমিটি কী করবে তার ভাবনা শুরু হয়েছে। জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসুর বক্তব্য, নতুন কেউ জেলা সভাপতি হচ্ছেন, এমন খবর সংবাদপত্র মারফত জানতে পেরেছি। দলীয় সূত্রে কিছুই জানি না। তবে সত্যিই যদি পরিবর্তন করা হয়, তাহলে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়া উচিত বলেই মনে করি। জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেছেন, সংবাদপত্রে তো আমার নামও লেখা হয়েছে জেলা সভাপতি পদের জন্য। তবে তা আমি হতে চাই না। সভাপতি পদে বর্তমানে সৌরভ চক্রবর্তী রয়েছেন। নতুন করে পরিবর্তনের খবর জানা নেই।

দলের নেতারা জানাচ্ছেন, জেলার সাতটি পঞ্চায়েত সমিতি ও ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশিরভাগ সদস্য ব্লক সভাপতিদের নির্দেশেই চলেন। সেক্ষেত্রে ব্লক সভাপতিরা বিদ্রোহ করলে গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে শাসকদলে ভাঙন দেখা দিতে পারে। এদিন বৈঠকের শেষে একাধিক ব্লক সভাপতি বলেন, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠক করে ব্ল্যাকমেলের কায়দায় কেউ যদি দলের জেলা কমিটির শীর্ষ পদে আসতে চান, তবে দলের কর্মীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যায়। এটা মেনে নেওয়া যায় না। ই-মেল করে দলনেত্রীকে আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।