উত্তর দিনাজপুরে হারিয়ে যাচ্ছে নীল চাষের ইতিহাস, প্রশাসনিক উদাসীনতা ঘিরে প্রশ্ন

95

রসাখোয়া: উত্তর দিনাজপুরে শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসের সমস্ত কিছুই নষ্ট হচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। ব্রিটিশ শাসিত অধুনা উত্তর দিনাজপুরের নীল উৎপাদনের এলাকা বর্তমানে নীলকুঠি নামে পরিচিত। ব্রিটিশরা বিদায় নিয়েছে বহু বছর হল। পাশাপাশি নীল চাষও বন্ধ হয়েছে। ধু ধু এলাকায় আজও নীল তৈরিতে ব্যবহৃত উনুন পড়ে আছে। রয়েছে নীলকর সাহেবদের ছোট কুঠিও। উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকাটি সংরক্ষিত করা হয়েছে। তবে, ইতিহাসবিদদের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমশই হারিয়ে যেতে বসেছে এই ইতিহাস বিজরিত জায়গা।

সময়টা অষ্টাদশ শতাব্দী। ব্রিটিশ শাসিত ভারত। তখন বিহারের অধীন অধুনা করণদিঘি। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জুড়ে নীল চাষে বাধ্য করা হয়েছে প্রজাদের। চাষে রাজি না হলে চাষিদের কপালে জুটতো নির্মম অত্যাচার। উৎপাদিত ফসল জমি থেকে তুলে চটের বস্তা বোঝাই করে ঘোড়ার পিঠে নিয়ে আসা হতো এখানকার লাহুতারা-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাবধান গ্রামের কারখানায়। সেখানে উনুনে সেদ্ধ করে নীল তৈরি হত। এরপর সেই নীল শুকানো হত মাঠে। সবশেষে বস্তাবন্দি হয়ে জাহাজে করে পাড়ি দিত বিদেশে। তিনদিকে বাঁশবাগান দিয়ে ঘেরা আদিবাসী অধ্যুষিত সাবধান গ্রামে বাঁশ বাগানের মাঝে ছিল নীল তৈরির আয়োজন। এখানে এখন গড়ে উঠেছে নীলকুঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওপারে বাংলাদেশ। পাশ দিয়ে খরস্রোতা নাগর নদী বইছে। এক সময় এই নদী পথে নীল জমা হতো এখানকার কারখানায়। কংক্রিটের যে ছয়টি ঘর জেলা প্রশাসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে, সেগুলি নীলকুঠি নামে পরিচিত। নীল চাষ করতে বাইরে থেকে দাদন নেওয়া চাষিদের এখানে আনা হত। এরপর শুধু অত্যাচারের অধ্যায়। বর্তমানে এলাকাটি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঐতিহ্যশালী এলাকা হিসেবে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের জার্নালে উঠে এসেছে। নীলকুঠি চত্বর ধীরে ছড়িয়ে থাকা নানা ঘটনা স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে আজও।

- Advertisement -

ইতিহাসবিদ আনন্দ গোপাল ঘোষ জানান, ব্রিটিশ আমলে করণদিঘিতে নীল চাষ করা হত, তার নানা উপাদান রয়েছে। ঐতিহাসিক উপাদানগুলি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না হলে হারিয়ে যাবে। উত্তর দিনাজপুরের অপর এক ইতিহাসবিদ ডঃ বৃন্দাবন ঘোষের দাবি, বছর আটেক আগে রাজ্যের তরফে সংস্কার হয়েছিল। তবে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিরাপত্তা রক্ষীর প্রয়োজন।