লকডাউনে এইচআইভি আক্রান্তদের ওষুধ পেতে সমস্যা হচ্ছে

327

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: লকডাউনে এইচআইভি আক্রান্তদের ওষুধ পেতে সমস্যা হচ্ছে। যদিও জেলায় দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আক্রান্তদের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছানোর কাজ করছে।

জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের বাড়ি খুঁজে পেতেও অনেকসময় তাঁদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। এই বিষয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান জানান, ‘আমাদের জেলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা এইচআইভি আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি ওষুধ পৌঁছানোর কাজ করছে। কেউ ওষুধ না পেলে সরাসরি ইসলামপুর কিংবা রায়গঞ্জ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে পারে।’

- Advertisement -

জেলায় এইচআইভি আক্রান্তদের জন্য কাজ করে এমন একটি সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলায় এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। সকলকেই রোজ ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু এখন অনেকেই ওষুধের সঙ্কটে পড়েছেন। কারও কাছে ওষুধ মজুত নেই। কেউ কেউ আবার পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় দু-তিনদিন অন্তর ওষুধ খাচ্ছেন।

ওই সংগঠনের সভাপতি উন্নতি মহন্ত বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্তরা রোজ ওষুধ না খেলে ওষুধ কাজ করবে না। দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটবে। এছাড়া আক্রান্তদের ‘ইমিউনিটি পাওয়ার’ খুবই কম। ফলে তারা ওষুধ না পেলে খুবই সমস্যায় পড়বেন। আমাদের দপ্তরে মোট ৭ জন কর্মী রয়েছে। কোনও গাড়ি নেই। ফলে বাড়ি বাড়ি ওষুধ পৌঁছানো খুবই কষ্টকর। লকডাউনের সময়ে আক্রান্তদের পরিচয় গোপন করে তাঁদের কাছে ওষুধ পৌঁছানোটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।’

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ব্লকে কাউন্সিলিং অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড টেস্টিং সেন্টার (আইসিটিসি) রয়েছে। সেখানে আক্রান্তদের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। প্রশাসন লকডাউন পর্বে আক্রান্তদের আইসিটিসিগুলি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করার নির্দেশ দিলে খুবই ভালো হয়। একদিকে যেমন আক্রান্তরা অনায়াসে ওষুধ সংগ্রহ করতে পারত আর আমরা এক জায়গায় বসেই ওষুধ দিতে পারতাম।’

উন্নতিদেবী জানান, সরকারিভাবে এইচআইভি আক্রান্তদের কাছে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। গাড়ি চলাচল না করায় আক্রান্তরা নিজেরাও হাসপাতাল থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না। সংগঠনের তরফে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যানবাহনের সমস্যার জন্য তাঁদের পক্ষে খুবই চাপের হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে আক্রান্তদের খোঁজ মিলছে না। ফলে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচআইভি আক্রান্তদের জন্য এআরটি (অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টার রয়েছে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে। আর লিঙ্ক এআরটি সেন্টার রয়েছে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে। এইচআইভি আক্রান্তদের ওই এআরটি কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়। কাউন্সিলিং করা হয়।

সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে, নিজেদের পরিচয় যাতে গোপন থাকে, সে জন্য ইসলামপুরের এইচআইভি আক্রান্ত রোগী উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে, আবার রায়গঞ্জের আক্রান্তরা অনেকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ওষুধ নিয়ে আসতেন। সেইসব মানুষেরা এখন সমস্যায় পড়েছেন। ইসলামপুরের এক আক্রান্ত জানান, তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ওষুধ নেন, এদিকে ওষুধও প্রায় শেষের পথে। গাড়ি চলছে না।