ফালাকাটায় বিজেপির কিষাণ মোর্চার বৈঠক

169

ফালাকাটা: নতুন বছরে ফালাকাটা সহ আলিপুরদুয়ারের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে কৃষক আন্দোলনকে শহরের বদলে গ্রামমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাম দলগুলিও কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে বিজেপি এখন ঘরে বাইরে চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শাখা সংগঠন হিসেবে কিষাণ মোর্চার গুরুত্ব বাড়াল বিজেপি। সূত্রের খবর, কৃষি আইনের পক্ষে পালটা জোরদার প্রচারের জন্য বিজেপির কিষাণ মোর্চা গোটা আলিপুরদুয়ার জেলাকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে। এজন্য প্রতি জোনে একজন করে কনভেনার নিয়োগ করা হয়েছে। আবার প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রেও একজন করে কনভেনার নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২১টি মণ্ডলে ২১ জনকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে জেলা কিষাণ মোর্চা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নেতৃত্বে নতুন বছরের চলতি মাসেই পথসভা, গৃহ সম্পর্ক সহ নানা কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। যদিও বিজেপির এই সাংগঠনিক তৎপরতাকে গুরুত্ব দিতে চায়নি তৃণমূল কংগ্রেস।

বিজেপি সূত্রে খবর, জেলা বিজেপির কিষাণ মোর্চা গোটা আলিপুরদুয়ার জেলাকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে। এরমধ্যে কৃষি অধ্যুষিত ফালাকাটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিধানসভা কেন্দ্রকেই পৃথক একটি জোনে রাখা হয়েছে। এই জোনের কনভেনার হয়েছেন কিষাণ মোর্চার জেলা সম্পাদক বাবলু চন্দ্র বর্মন। আলিপুরদুয়ার ও কুমারগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে নিয়ে গঠিত জোনের কনভেনার করা হয়েছে সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক শংকর ঘোষকে। কালচিনি ও মাদারিহাট কেন্দ্রকে একসঙ্গে করে তৃতীয় জোন তৈরি হয়েছে। সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক জীবন সাহা হয়েছেন এই জোনের কনভেনার। এই জেলায় রয়েছে ৫টি বিধানসভা কেন্দ্র। তাই প্রতি কেন্দ্রেই একজন করে কনভেনার নিয়োগ করেছে জেলা কিষাণ মোর্চা। ফালাকাটায় সুজিত সরকার, আলিপুরদুয়ারে টুম্পা দাস, কুমারগ্রামে করুনা কান্ত রাভা, কালচিনিতে দেবাশিষ মজুমদার ও মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে ভবেশ ছেত্রীকে বিধানসভার কনভেনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই কনভেনাররাও সংগঠনের জেলা কমিটির পদাধিকারী। এছাড়াও গোটা জেলায় সংগঠনের একুশটি মণ্ডলে একুশ জন নেতাকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। কৃষক আন্দোলন নিয়ে যে যথেষ্ট চাপ বাড়ছে তা বিজেপির কিষাণ মোর্চার সাংগঠনিক তৎপরতাতেই বোঝা যাচ্ছে। যদিও সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে চাপের কথা অস্বীকার করেছেন।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ারে এক সময় বিজেপির কৃষক সংগঠনের তেমন প্রভাব ছিল না। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কারণে গত ১৬ নভেম্বর সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠিত হয়। এবার তৃণমূল সহ বাম দলগুলিকে রুখতে এবং কৃষি আইনের পক্ষে পালটা প্রচারের কারণেই বিজেপির কিষাণ মোর্চার গুরুত্ব বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। কিষাণ মোর্চার জেলা সভাপতি সুজিত সাহা বলেন, ‘চলতি মাসেই সংগঠনের তরফে ‘আর নয় কৃষক অসুরক্ষা’ স্লোগান তুলে পথসভা ও বুথে বুথে লিফলেট নিয়ে গৃহ সম্পর্ক অভিযান করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নেতৃত্বেই এই কর্মসূচি চলবে।’ গত মাসে ‘শুনুন চাষি ভাই’ কর্মসূচিতে অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন বিজেপি নেতারা। তবে সুজিত বাবুর দাবি, শুনুন চাষি ভাই কর্মসূচি সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণেই কেন্দ্রের কৃষি আইন নিয়ে বিরোধীতা করছে তৃণমূল। তবে এসব করেও ওদের কোনও লাভ হবে না।’ এদিকে কিষাণ ও খেতমজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘বিজেপির এই তৎপরতায় কাজ হবে না৷ কৃষকরা কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিপক্ষেই রয়েছেন।’