মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা : রাতে তো বটেই, এলাকায় দিনের বেলাতেই আকছার হাতি ঘুরে বেড়ায়। গ্রামবাসীদের কাছে এই দৃশ্য অত্যন্ত চেনা হলেও শহুরে পর্যটকদের কাছে রীতিমত রোমাঞ্চকর। পর্যটকদের এমন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগকে সামনে রেখে হোমস্টে টুরিজমের ব্যবস্থা করেছেন মাদারিহাটের মধ্য ছেকামারি গ্রামের বাসিন্দা অংশুময় নার্জিনারী। অক্টোবর মাস থেকে বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কযেদিন আগেই মালদা থেকে আসা একদল পর্যটক তাঁর বাড়িতে থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন। পর্যটক হাসান আসকারি, জিযাউর রহমান, রুবিনা পারভিন সহ অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই হোমস্টের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কলকাতা, গুয়াহাটি থেকে বেশ কিছু পর্যটক সেখানে থাকার জন্য ইতিমধ্যেই অনলাইনে বুকিং করেছেন বলে জানান অংশুময়বাবু।

আলিপুরদুযার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি রাতেই হাতি হানা দেয়। ছেকামারির মতো বেশ কিছু এলাকা রয়েছে, যেগুলিতে দিনের বেলাতেও হাতি দেখা যায় । ঠিক এই বিষয়টিকেই কাজে লাগাতে চাইছেন অংশুময়বাবু। তিনি বলেন,শহরের মানুষ সচরাচর হাতি দেখতে পান না। এজন্য জঙ্গল সাফারিতে যেতে হয়।  তবে ছেকামারিতে হাতি দেখতে হলে বনের ভেতর যায়ার দরকার নেই। রাতে গ্রামেই হাতির দেখা মিলবে। ভাগ্য ভালো হলে গ্রামে দিনের বেলাতেই হাতির দেখা মিলবে। হাতি দেখার জন্য বাড়ির পাশেই এবার ওয়াচটাওয়ার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া, পর্যটকরা এখান থেকে জলদাপাড়া, টোটোপাড়া, ভুটান সহ বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যেতে পারেন। ছেকামারি থেকে তিন কিলোমিটার দূরেই মাদারিহাট ব্লক তালুক ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। জলদাপাড়াকে কেন্দ্র করে মাদারিহাটে প্রচুর বেসরকারি লজ, রিসর্ট গড়ে উঠেছে। তবে মাদারিহাটের কিছুদূরে মধ্য ছেকামারিতে হোমস্টে টুরিজমের ব্যবস্থা এই প্রথম।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদারিহাটের ছেকামারি গ্রামের ভেতর দিযে হাতি চলাচলের একটি করিডর রয়েছে। দলগাঁও, বান্দাপানি, ধুমচি বনাঞ্চল থেকে বেরিযে হাতির পাল ছেকামারি গ্রামের ভেতর দিয়ে খয়েরবাড়ি বনাঞ্চলে যায়। খয়েরবাড়ি বনাঞ্চলের গা ঘেঁষেই ছেকামারি গ্রাম। গ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে লাইন হোটেল লাগোয়া এলাকায় ৩১সি জাতীয় সড়কের পাশে প্রায়ই হাতির পাল দাঁড়িযে থাকে। ফলে ছেকামারিতে দিনের বেলাতেই হাতি দেখার সুযোগ পাওযা অসম্ভব নয়। এলাকার বাসিন্দারা জানান, হাতির হানায় তাঁদের এলাকায় প্রায়ই ক্ষয়ক্ষতি হয়। হাতির হানায় প্রায়ই বাড়িঘর গুঁড়িযে যাচ্ছে। চাষবাস করাও মুশকিল য়ে পড়েছে। ছেকামারি গ্রামটি সুপারি চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানে বিঘার পর বিঘা জমিতে সুপারি চাষ করা হয়। তবে হাতির হানায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে অনেক সুপারি চাষির। হাতির পাল সুপারি গাছ ভেঙে কাণ্ডের ভেতরের শাঁস বের করে খাচ্ছে।

অংশুময় নার্জিনারী জানান, তাঁর সুপারি বাগানেও একাধিকবার হাতির হানায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, তবে এবার আমাদের সুপারি বাগানে হাতি এলে পর্যটকরা সেই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। সুপারি বাগান ঘেঁষে তৈরি করা ঘরেই পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। আপাতত চারটি ডবল বেডের ঘরে ১৬ জন পর্যটক থাকার ব্যবস্থা করেছেন অংশুময়বাবু। এই পথ অনুসরণ করে ছেকামারিতে হোমস্টে টুরিজমের আরও প্রসার ঘটবে এবং স্থানীয়রাও পর্যটনকেন্দ্রিক উপার্জনের বিকল্প পথ পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।