শিলিগুড়ির কিরণচন্দ্র শ্মশানঘাটে নেশাগ্রস্তদের দাপট

92

শিলিগুড়ি : কিরণচন্দ্র শ্মশানঘাটে নেশাগ্রস্তদের দাপটে প্রায় প্রতিদিনই লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে শবযাত্রীদের। কখনও সামান্য কারণে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ আবার কখনও মারপিট পর্যন্ত বেধে যায় শ্মশানঘাটে। বৃহস্পতিবার এলাকার এক ব্যক্তির শবদেহ নিয়ে কিরণচন্দ্র শ্মশানঘাটে দাহ করার জন্য গিয়ে নেশাগ্রস্তদের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর স্বপন দাসকে।
শিলিগুড়ির কিরণচন্দ্র শ্মশানঘাটের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বহু বছর আগে শ্মশানঘাটে পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও পরবর্তীতে সেই ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যায়। সেই সুযোগে এলাকার কিছু দুষ্কৃতী সন্ধ্যা নামতেই শ্মশানঘাট চত্বরে দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করে। শ্মশানঘাটে প্রতিদিন বসে নেশার আসর। রাতের দিকে শবদেহ নিয়ে আসা শবযাত্রীদের থেকে টাকা তোলা হয় বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি তাঁদের অত্যাচারে শবযাত্রীরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। টাকা না দিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, কখনও নিগৃহীত করা হয় শবযাত্রীদের। বিভিন্ন মহলে বিষয়টি বহুবার জানানো সত্ত্বেও কোনও কাজ হয়নি। অনেকেই সাহস করে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চান না, তাই পুলিশও সেখানে আসে না। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা শবযাত্রীদের হয়রানি করে।
২২ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার শেষকৃত্যের জন্য তাঁর পরিবার শ্মশানঘাটে শবদেহ নিয়ে এলে সেখানে একদল দুষ্কৃতী সামান্য একটি চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে তাঁদের উপর চড়াও হয়। তাঁদের নিগ্রহের চেষ্টা করা হয়। সেই সময় ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর স্বপন দাস শ্মশানঘাটে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁর গায়ে হাত তোলা হয়। স্বপনবাবুর বক্তব্য, শবযাত্রীদের একজন সেখানে একটি চেয়ারে বসেছিলেন। সেই সময় এক দুষ্কৃতী এসে চেয়ারে বসে থাকা ভদ্রলোককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। সেই সময় আমি প্রতিবাদ করি। আমরা প্রতিদিন এই ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ি। এখানে মানুষ একটা শোকের আবহে থাকেন। তার মধ্যে এখানকার কিছু ছেলে যে অত্যাচার করে তা সাংঘাতিক। আমরা আতঙ্কিত। স্বপনবাবু বলেন, যেখানে ঘট রাখতে হয়, সেখানে বহিরাগতরা মলমূত্র ত্যাগ করে। এত নোংরা জায়গা হয়ে থাকে যে গন্ধে সেখানে যাওয়া যায় না। অথচ কোনও ব্যবস্থাই হচ্ছে না। শ্মশানঘাটের দায়িত্বে থাকা পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য রামভজন মাহাতো বলেন, এলাকার কিছু সমাজবিরোধীরা এই কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের জিনিসপত্রও প্রচুর চুরি যায়। আমরা পুলিশকে বিষয়টি বলছি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পেলে প্রতিক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।