বাংলাদেশে করোনার ভয়াবহ গোষ্ঠী সংক্রমণ

229

ঋদ্ধিমান চৌধুরি,ঢাকা: বাংলাদেশে এক দিনে করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক ব্যক্তির পরীক্ষার মাধ্যমে সর্বোচ্চসংখ্যক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৪৩ জন। গত ৮ মার্চ করোনা শনাক্তের পর বুধবার সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮ জন আক্রান্তর সংখ্যা  রেকর্ড। সব মিলিয়ে  আক্রান্তর সংখ্যাও লাখের দরজায় কড়া নাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এদিন পর্যন্ত ৯৮ হাজার ৪৮৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে  ১৩০৫। স্বাভাবিক ভাবেই গোষ্ঠী সংক্রমণ ব্যাপক রূপ নিয়েছে বলে খবর।

ঈদের আগে-পরে কোনও রকম সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে অবাধে যাতায়াত চলেছে। ফেরিঘাট গুলিতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব) জানিয়েছে, বাংলাদেশে ১৬ কোটি মোবাইল গ্রাহক রয়েছে। যার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ  অর্থাৎ  প্রায় ৬ কোটি গ্রাহক রাজধানী থেকে গ্রামে এবং বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেছেন।  এর ফলে গোষ্ঠী সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

- Advertisement -

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, গত ঈদে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়ে যায়। তখনকার পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে আশঙ্কা করা হয়েছিল গোষ্ঠী সংক্রমণ আরও ভয়াবহরূপ নেবে। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। এখন দেখা যাচ্ছে,  প্রতিদিন ৪ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।  হাসপাতালে ভর্তির একটা দখল নিতে হচ্ছে।  করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার অন্যতম উপায় হচ্ছে,  দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখা।  কিন্তু এক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি বলেই উর্ধমুয়খী সংক্রমণ।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান বলেন, মানুষ যদি ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করতেন এবং করোনা মহামারি সম্পর্কে সচেতন থাকতেন, তাহলে হয়তো সংক্রমনটা ভয়ঙ্কর রূপ নিত না।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা হেলথ বুলেটিনে বলেন, এদিন সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ৩৮ হাজার ১৮৯ জন। ৫৯টি পরীক্ষাগারে ১৭ হাজার ৫২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বুধবারই রাজধানীর এভারকেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশরাফুজ্জামান ও দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ডা. শাহ মো. আবদুল আহাদ মারা যান।