অবৈধ নার্সিংহোমে মিলল হাসপাতালের বেড, ওষুধ

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। ব্যাং-এর ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেআইনি নার্সিংহোমে মিলল সরকারি হাসপাতালের বেড। শুধু তাই নয়, অবৈধ নার্সিংহোমে বিছানার চাদর, তোষক, স্যালাইন সবই চোরাপথে এসেছে সরকারি হাসপাতাল থেকে। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ওষুধের স্ট্রিপের গায়ে লেখা, নট ফর সেল। আসলে সেগুলিও সরকারি হাসপাতাল থেকেই এসেছে। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বেআইনি নার্সিংহোম গজিয়ে ওঠার পিছনে প্রশাসনেরই কেউ জড়িত? গোয়ালপোখরের লোধনে বেশ কয়েক বছর ধরে রমরমিয়ে একটি নার্সিংহোম চলছিল। সেই নার্সিংহোমের মালিক মহম্মদ মোক্তার একসময় অ্যাম্বুল্যান্স চালক ছিলেন। অ্যাম্বুল্যান্স চালক থেকে কীভাবে নার্সিংহোমের মালিক হয়ে গেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

গোয়ালপোখরের লোধন ব্লক হাসপাতাল থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে নিজের বাড়ির একটি ঘরে বেশ কয়েক বছর আগে নার্সিংহোম গড়ে তোলেন মহম্মদ মোক্তার। শিক্ষাগত যোগ্যতা ক্লাস এইট পাশ হলেও তিনি নিজেকে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। সেই নার্সিংহোমে মোটা টাকার বিনিময়ে গর্ভপাত ও প্রসবের কারবার চলত। শুক্রবার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তিনটি নার্সিংহোমের অনুমোদন বাতিল করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর করা হয়নি। ওই এলাকায় অবস্থিত বেআইনি নার্সিংহোমে সরকারি হাসপাতালের ব্যবহৃত লোহার বেড, চাদর, স্যালাইন, স্যালাইন স্ট্যান্ড ও ওষুধের খোঁজ মিলতেই প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় অবস্থা। সরকারি হাসপাতালের আসবাব, স্যালাইন, ওষুধ কীভাবে সেখানে গেল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, তিনটি নার্সিংহোমের অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সিল করা ও গ্রেপ্তারের দাযিত্ব পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের।

- Advertisement -

বেআইনি নার্সিংহোম খোলার আগে কানকির মজলিশপুরে থাকতেন মহম্মদ মোক্তার। সেই সময় লোধন ব্লক হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সের অস্থায়ী চালকের কাজ করতেন তিনি। অভিযোগ, অ্যাম্বুল্যান্স চালকের কাজ করার সুবাদেই ব্লক হাসপাতালের কর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। প্রশ্ন উঠছে, সেই সুযোগকে কাজেই লাগিয়ে কি মোক্তার সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন সামগ্রী হাতিয়ে নার্সিংহোম খুলে বেআইনি কারবার জমিয়ে বসেন? ২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা শাসক আয়েষা রানি এ ওই সব নার্সিংহোম সিল করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফের কীভাবে নার্সিংহোমগুলি খুলে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি, ঘটনার তদন্ত চলছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নার্সিংহোমের মতো আরও তিনটি বেআইনি নার্সিংহোমের খোঁজ মিলেছে।