কোভিড হাসপাতালে অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, প্রাণনাশের হুমকি সুপারকে

551

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ কোভিড হাসপাতালে অনিয়ম হটাতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পেলেন খোদ হাসপাতাল সুপার দিলীপ কুমার গুপ্তা। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে কোভিড হাসপাতালের হাউস কিপারদের সুপারভাইজার বাপ্পা দাস ফোন করে সুপারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ নিয়ে তিনি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ অন্য চার আধিকারিক ও স্বাস্থ্য ভবনে অভিযোগ করেছেন।

এহেন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজের কর্মস্থলে থাকা কতটা নিরাপদ তা নিয়ে সংশয়ে হাসপাতাল সুপার। তাই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফোনে যেভাবে আমাকে সাশানো হয়েছে, তাতে দুষ্কৃতীরা যেকোনও দিন আমার ওপর হামলা চালাতে পারে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি।

- Advertisement -

রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের ছটপারুয়া এলাকায় কোভিড হাসপাতাল অবস্থিত। মাস চারেক ধরে কুনোর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এনে চিকিৎসক দীলিপবাবুকে এই হাসপাতালের সুপার করা হয়েছে। তবে তিনি চাকরি ছেড়ে দিলে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসা পরিষেবায় নানা সমস্যার আশঙ্কা করছেন। অভিযোগ কোভিড হাসপাতালে একটি বেসরকারি সংস্থার হাউস কিপারদের সুপারভাইজার বাপ্পা দাস নানান অনৈতিক কাজকর্ম করে চলেছেন।

কোভিড হাসপাতালে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার নাম করে সম্প্রতি ১০ জন হাউসকিপারকে ঢুকিয়েছেন। কারও কাছ থেকে চার লক্ষ আবার কারও কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। শুধু তাই নয় চুপিসারে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বাড়ি থেকে আসা খাদ্যসামগ্রীর সঙ্গে বিড়ি, সিগারেট ও বিভিন্ন নেশার সামগ্রী দেওয়ার কাজ করতেন অভিযুক্ত বাপ্পা দাস।

হাসপাতালে দালাল রাজ, কাঠমানি রাজ চালিয়ে এসেছে একটি চক্র। গতকাল হাতেনাতে একাধিক কুকীর্তি ধরে ফেলে হাসপাতাল সুপার। করা প্রশাসক হওয়ায় তাদের অনেকের স্বার্থে আঘাত নেমে এসেছে। অর্থাৎ মৌচাকে ঢিল পড়েছে। হাসপাতালে কর্মরত অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই একাধিক অনিয়ম উঠে আসে। গতকাল বিকেলে দালাল রাজ বন্ধ করতে নির্দেশ জারি সহ বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ করতেই ঘরে বাইরে হাসপাতাল সুপারকে চাপের মুখে পড়তে হয়।

শুধু তাই নয় রোগীদের খাবার সরবরাহ করার দায়িত্ব বাপ্পা দাস সহ একদল অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের। সেখানেও কাঠ মানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক রোগী গত দু’দিন ধরে না খেয়ে রয়েছে। শরীরে পড়ছে একের পর এক কড়া ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক। সেই কারণেই সোমবার বাপ্পা দাসকে ফোন মারফত লিকুইড খাওয়ার কথা নির্দেশ দেন নার্সদের। নার্সরা বাপ্পা দাস কে লিকুইড খাবার নিয়ে আসতে বলেন কিন্তু দুদিন ধরে নিয়ে আসবো বলে এখনো পর্যন্ত আনেননি।

এ নিয়ে বাপ্পা দাসকে সতর্ক করেছিল হাসপাতাল সুপার। নিজেদের দায়িত্ব যাতে সঠিক ভাবে পালন করেন সেই দিনগুলিতে নিজে নজরদারি করে অনেককেই সতর্ক করেছেন। চিকিৎসা পরিষেবার মান যাতে উন্নত করা যায় সেই জন্য জেলা স্বাস্থ্য ভবনে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছিল। পরিষেবার মান উন্নয়ন করতে গিয়েও সংশ্লিষ্ট অনেকেরই সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশাও অনেকবার সুপারের মুখে শোনা গিয়েছে।

হাসপাতালে কর্মীদের একাংশ জানিয়েছে অদৃশ্য একটি শক্তি দীলিপ বাবুর মতন একজন সৎ ও করা প্রশাসককে মাস তিনেক ধরেই হুমকি দিয়ে চলেছে। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করে তিনি উন্নয়নের গতি থমকে যেতে দেননি। হাসপাতালের কর্মী চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন এখানে প্রভাবশালী চক্রের মৌরসিপাট্টা গড়ে উঠেছে। তাদের অনেকের ধান্দাবাজ ও চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা ও কাজের ফাঁকফোকর গুলি ধরে ফেলায় যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, ‘কোভিড হাসপাতাল সুপারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার খবর শুনেছি। ওই চিকিৎসক লিখিত আকারে আমাকে অভিযোগ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ চিকিৎসক দিলীপ কুমার গুপ্তা বলেন, ‘এদিনও তাকে ফোন মারফত গুলি করে খুন করার হুমকি দিয়েছেন খুন। সমস্ত কল রেকর্ড জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকের পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য ভবন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিয়েছি। ‌স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছে।’

কোভিড হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্থায়ী কর্মী বাপ্পা দাস রায়গঞ্জ শহরের চন্ডীতলা এলাকার বাসিন্দা কুখ্যাত দুষ্কৃতী বলেই পরিচিত। বাপ্পা দাসকে ফোন করা হলে তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ।