শিলিগুড়িতে ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছে হোটেল

265

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : দিনের পর দিন শহরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন বাজার, হোটেলে আগুন লাগছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, কোনও জায়গাতেই অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা ছিল না। দিনের পর দিন আইন ভেঙে শহরে ছোট ছোট দোকানঘর ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন পাইস হোটেল চলছে। সেখানে চূড়ান্ত অসতর্কভাবে রান্না চলছে। কিন্তু এভাবে আইন অমান্য করে হোটেল চললেও দমকলের হুঁশ নেই।

অভিযোগ, একবার ফায়ার লাইসেন্স দেওয়ার পর আর নজরদারি চালাচ্ছে না দমকল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, কোনও কোনও ব্যবসাযী ফায়ার লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করেই হোটেল চালাচ্ছেন। তবে দমকল আধিকারিকদের দাবি, নিয়ম করে অভিযান (পোশাকি ভাষায় ফায়ার অডিট) হচ্ছে। কিন্তু কবে, কোথায় অভিযান হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরবাসী। অভিযান হলে বেআইনি হোটেল কী করে চলছে-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দমকলের ডেপুটি ডিরেক্টর অভিজিৎ পান্ডে বলেন, নিয়ম করে আমাদের আধিকারিকরা ফায়ার অডিট করেন। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে দেখা হয়, সব ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না।

- Advertisement -

মাসখানেক আগেই শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে আগুন লাগে। এরপর চম্পাসারি বাজারের মুরগিহাটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তার কিছুদিনের মধ্যেই রবীন্দ্রনগর মোড়ে আগুন লেগে পুড়ে যায় নয়টি দোকান। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নেভানোর কোনও ব্যবস্থা ছিল না। একইভাবে শনিবার দুপুরে পানিট্যাঙ্কি মোড়ের একটি হোটেলে আগুন লাগে। সেখানেও একই পরিস্থিতি। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রেখেই হোটেল চলছিল। শহরজুড়ে এই ধরনের একাধিক পাইস হোটেল রয়েছে, যেগুলির ফায়ার লাইসেন্স নেই। শহরের বিভিন্ন স্টেশন, বাস টার্মিনাস এলাকায় এই ধরনের পাইস হোটেল বেশি রয়েছে। পুলিশকর্মী থেকে শুরু করে দমকলকর্মী- সবাই ওই হোটেলে খাবার খেতে যাচ্ছেন। কিন্তু অনিয়ম ধরা পড়ছে না কারও চোখে। ফলে গাফিলতি থাকলেও বুক ফুলিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ওই সমস্ত ব্যবসায়ীরা।