বাঁধ ভেঙে বাড়ি তৈরি হচ্ছে মহাসিংজোতে

387

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : এলাকাবাসীকে বন্যা থেকে বাঁচাতে সরকারের তরফে বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো কিছুর পরোয়া না করে সেই বাঁধ ভেঙে বাড়ি তৈরির অভিযোগ উঠেছে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নকশালবাড়ি ব্লকের হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের মহাসিংজোতের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগের কথা জানতে পেরে প্রশাসনের সব মহল থেকেই এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বাঁধ না ভাঙার জন্য বহুবার সতর্ক করা সত্ত্বেও  তাতে আমল না দিয়ে গ্রামবাসীদের বিপদে ফেলে ব্যক্তিগত স্বার্থে বাঁধ ভেঙে রাস্তা ও বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েছের ভূমি দপ্তরের রেভিনিউ ইনস্পেকটর লক্ষ্মীকান্ত রায় বলেন, আমি দুদিন হাতিঘিসার অফিসে যাইনি। তাই এখনও আমার কাছে অভিযোগপত্র আসেনি। আমি অফিসে গিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ করব। নকশালবাড়ির বিডিও বাপি ধর বলেন, আমার কাছে হাতিঘিসার মহাসিং সংসদ থেকে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ এসেছে। সরকারি বাঁধ ভেঙে রাস্তা ও বাড়ি তৈরির অভিযোগ এখনও পাইনি। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষায় বাহনঝরা নদীর জল গ্রামে ঢুকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হত। এলাকাবাসীর তরফে প্রশাসনকে বহুবার জানানোর পর ২০১২ সালে সেচ দপ্তর থেকে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে বাহনঝরা নদীর উপর প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি পাথরের বাঁধ তৈরি করা হয়। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণ করে চলেছেন। এভাবে বাঁধ ভেঙে নির্মাণকাজের ফলে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে গ্রামবাসীদের আশঙ্কা। প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

- Advertisement -

হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহাসিং সংসদটি বাহনঝরা ও চেঙা নদী দিয়ে ঘেরা। বছর সাতেক আগে সেচ দপ্তর ও হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে দুই নদীর উপর বাঁধ তৈরি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা জীবন রায় বলেন, য়েভাবে বাঁধ ভেঙে অবৈধ নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে যে কোনো সময় নদীর জল বেড়ে গেলে এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তাই এই বিষয়ে আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি। অরুণ রায়, চন্দ্রমোহন রায়, অনুপ এক্কাদের মুখেও শোনা গেল একই কথা। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রিতা রায় বলেন, সরকারি বাঁধ ভেঙে কোনোমতেই অবৈধ নির্মাণ করতে দেওয়া য়াবে না। তাই আমরা এই বিষয়ে ভমিসংস্কার দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছি। গ্রামের অন্য বাসিন্দারা য়াতে এ ব্যাপারে সতর্ক  হন, সেজন্য আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।