বাড়িভাড়া নিয়ে সমস্যা, জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন ভাড়াটিয়া যুবকেরা

400

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: বিভিন্ন প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থী হিসেবে ভিন জেলা থেকে আসা কয়েকশো যুবক সমস্যায় পড়েছেন। বাড়িভাড়া না দিতে পাড়ায় বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন বাড়িওয়ালারা। এমনই অভিযোগ রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকা যুবকদের। এই নিয়ে শেষে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন তারা। জেলাপ্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। তারা জানান, একদিকে রুটি-রুজি বন্ধ। বাড়ি থেকেও টাকা-পয়সা আসছে না। ফলে একদিকে খাদ্যসংকটে আবার অন্যদিকে বাড়িওয়ালারা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সমস্যা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাড়ে তিনশো যুবক রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া এলাকায় কয়েকমাস ধরেই বিভিন্ন কসমেটিক্স ও জৈবসার তৈরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। একটি সংস্থার মাধ্যমে এবং তারা সেইসব প্রশিক্ষণ শেষে উৎপাদিত জিনিসপত্র বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে কিছু আয় করে দিন যাপন করত। কিন্তু সংস্থার রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই প্রশিক্ষণ নিতে আসা যুবকরা চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন। কোনরকমে খাবার জুটলেও তারা স্থানীয় যেই বাড়ি গুলিতে ভাড়া রয়েছে সেই প্রভাবশালী কয়েকজন বাড়িওয়ালার ভাড়া দিতে না পারায় তাদেরকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। তারা এই লকডাউনের মধ্যে কিভাবে বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলায় কিভাবে ফিরবে তা ভেবে না পেয়ে এবং আতঙ্কিত হয়ে অবশেষে এদিন জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। জেলা শাসকের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এহেন পরিস্থিতিতে জেলাশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখে এই মুহূর্তে বাড়িওয়ালার কাছে তাদেরকে ভাড়া দিতে না হয় তা দেখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।

- Advertisement -

যদি কেউ এরপরেও বাড়াবাড়ি করে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাপি মল্লিক, সম্রাট শীল, রাজু মাহাতোর অভিযোগ,”বিভিন্ন জেলা থেকে বছরখানেক আগে কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিসপত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করছি। লকডাউনের জেরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি বন্ধ হয়েছে। তার ফলে চরম আর্থিক সঙ্কটের পাশাপাশি খাওয়ারও সমস্যা হচ্ছে। দিন কয়েক ধরেই বাড়ির মালিকেরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। টাকা না দিলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই কারণেই জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছি।” জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা বলেন,”আমাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্ররা। মহকুমার শাসককে সে কমপ্লেন টি ফরওয়ার্ড করা হয়েছে। আইনত যা ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেখানে রাজ্য সরকার বলে দিয়েছে লকডাউন পিরিয়ডে ঘর ভাড়া থেকে শুরু করে যাবতীয় ভাড়া না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তাতে ভাড়া বাড়ির মালিক না শোনে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। প্রথমে সতর্ক করা হচ্ছে তার পরেও যদি না শুনে ওই ভাড়া বাড়ির মালিকদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হবে।”