পানিট্যাঙ্কিতে সরকারি জমি দখল করে বাড়ি

557

মহম্মদ হাসিম, খড়িবাড়ি : খড়িবাড়ি ব্লকের পানিট্যাঙ্কিতে নেপাল যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের সামনে এশিয়ান হাইওয়ে ও পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল করে ইতিমধ্যে প্রায় ২০০টি ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন থেকে সরকারি জায়গা দখল হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। রাস্তা তৈরির সময় উচ্ছেদকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তাঁরা ফের জাতীয় সড়কের জমি দখল করতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ। করোনার জেরে ভারত-নেপাল সীমান্ত দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। লকডাউন চলাকালীন এশিয়ান হাইওয়ে ও জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী জমিতে অবাধে দখলদারি চলছে। প্রতিটি প্লট বিহার ও মণিপুরের বাসিন্দাদের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা সীমা দাস বলেন, বছরখানেক আগে পানিট্যাঙ্কি ফ্লাইওভারের সামনে আমার দোকান ভেঙেছিল এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিপূরণ বাবদ আমাকে তিন লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। একই জায়গা ফের দখল করেছে বেবি বর্মন নামে এক মহিলা। ইতিমধ্যে সেখানে পাকা বাড়ি ও হোটেল তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবাদ জানাতে গেলেই আমাকে পুলিশ ও বিডিও মারফত ভয় দেখানো হচ্ছে। এশিয়ান হাইওয়ে-২ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ। পালটা বেবি বর্মন বলেন, এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমি সেখানে বাড়ি বানিয়েছি। এখানে কোনওরকম অবৈধ নির্মাণ করা হচ্ছে না। এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য কংগ্রেসের প্রফুল্ল বর্মন বলেন, ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা খরচ করে দোকানঘর বানিয়েছি। পুলিশ ও বিডিওকে ভয় করলে হবে নাকি।  স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথম দিকে দুই থেকে চারটি খুটি পুঁতে জমি দখল করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে খুঁটির সংখ্যা বাড়িয়ে সেগুলির ওপর পাটাতন বসিয়ে দোকানঘর তৈরি করে ফেলা হচ্ছে।

- Advertisement -

এ বিষয়ে এশিয়ান হাইওয়ে-২এর পর্যবেক্ষক মহেন্দ্র সিং বলেন, কোনওরকম টাকার বিনিময়ে পানিট্যাঙ্কিতে জায়গা দখল দেওয়া হয়নি। সেখানে  যতগুলি বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছে, সবগুলির ছবি সহ রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার তারাই নেবে। জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন (এনএইচআইডিসিএল) শিলিগুড়ি বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আশিস গুপ্তা বলেন, পানিট্যাঙ্কি ফ্লাইওভারের শুরু পর্যন্ত আমাদের জায়গা রয়েছে। যেখানে বাড়িঘর তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলি পূর্ত দপ্তরের আওতায় পড়ে। আমাদের সেখানে কিছু করার নেই। শিলিগুড়ি পূর্ত দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অসীম বালা বলেন, পানিট্যাঙ্কিতে পূর্ত দপ্তরের জায়গায় অবৈধ নির্মাণ হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তবে এ নিয়ে এখনও কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। এশিয়ান হাইওয়ে-২এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার দীপক সিনহা বলেন, পানিট্যাঙ্কি এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে জায়গা দখল হচ্ছে, এমন রিপোর্ট এখনও আমাকে কেউ দেয়নি। আমাদের দপ্তরের কেউ যুক্ত থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।