চাঁদকুমার বড়াল : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলা আবাস যোজনার ঘরের কোটা এসে একমাস পড়ে থাকলেও ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষে গরিবদের ঘর বণ্টন এখনও শুরু হয়নি উত্তরবঙ্গের তিন জেলায়। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি- এই তিনটি জেলাপরিষদই এখনও উপভোক্তাদের এই আর্থিক বছরে ঘর দিতে পারেনি। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীরা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি এই তিন জেলায় লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করায় রাজ্য সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রকল্পের ঘর বণ্টন বন্ধ রেখেছে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ঘর বিলির কাজ শুরু হয়নি। তবে শুরু হয়ে যাবে। বিরোধীদের অভিযোগ ঠিক নয়।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলা আবাস যোজনায় ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষে গরিবদের দেওয়ার জন্য কোচবিহার জেলায় বরাদ্দ হয়েছে ২৯৪৩টি ঘর। জলপাইগুড়ি জেলা পেয়েছে ৪০৫৮টি ঘর। আলিপুরদুয়ার জেলার কোটায় রয়েছে ৭৩৮৪টি ঘর। কোটা অনুয়াযী জেলাপরিষদ প্রতি আর্থিক বছরে তালিকা ধরে ঘর বিলির কাজ করবে এবং সেই অনুয়াযী উপভোক্তারা ধাপে ধাপে বরাদ্দের টাকা পাবেন। এইসব কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল রয়েছে। কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলিকে কোটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর রাজ্য সরকার জেলা অনুয়াযী অগাস্ট মাসেই কোটা ভাগ করে দিয়েছে। এরপর একমাস পার হয়ে গেলেও চলতি আর্থিক বর্ষে নতুন উপভোক্তাদের ঘর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেনি উত্তরবঙ্গের তিন জেলা।

কেন ঘর বিলি করার কাজ শুরু হয়নি, তার সঠিক উত্তর জেলাপরিষদগুলি বা জেলা প্রশাসনের কাছে নেই। কোটা বরাদ্দের বিষয়টি অনেকেই জানেন না বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাপরিষদের জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানার কথা। কারণ সবকিছু অনলাইনে পোর্টালের মাধ্যমে হয়। সেখানে কবে কোন জেলায় কত ঘর বরাদ্দ হল, কত টাকা এল সবই আপডেট করা থাকে।  আবাস যোজনা প্রকল্পে এখন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় উপভোক্তাদের। তিন ধাপে টাকা দেওয়া হয়। ৪৫ হাজার টাকা করে প্রথম দুবার এবং শেষ কিস্তিতে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

কোচবিহার জেলাপরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। আলিপুরদুয়ার জেলাপরিষদের সভাধিপতি শীলা দাসসরকার বলেন, বাংলা আবাস যোজনার কোটা এসেছে বলে মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিতভাবে কিছু পাইনি। চিঠি পেলেই কাজ শুরু হবে। জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন বলেন, ঘরের কোটা এখনও আসেনি। এলে জানতাম। আধিকারিকরা কিছু বলেননি। কোটা এলে তো আমাকে জানাতেন তাঁরা।

এই অবস্থায় বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতী রাভার অভিযোগ, উত্তরবঙ্গে লোকসভা ভোটে বিজেপি ভালো ফল করায় এখানকার সমস্ত উন্নয়ন রাজ্য সরকার স্তব্ধ করে দিয়েছে। সেই কারণেই এখানে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর দেওয়া বন্ধ করে রেখেছে তারা। বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্য সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ করে রেখেছে। মানুষ তার সুবিধা পাচ্ছে না। এসব নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, ঘর দিলে পাছে বিজেপির প্রচার হয়, এই ভয়ে ঘর দেওয়া বন্ধ রেখেছে জেলাপরিষদগুলি। গরিবদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। শীঘ্রই তাঁরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবেন।