লম্বা হচ্ছে দখলদারদের হাত, নিকাশিনালার উপর বাড়ি বীরপাড়ায়

343

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া : ক্রমশ লম্বা হচ্ছে দখলদারদের হাত। আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় সড়ক-রেলমন্ত্রকের জমি দখলের পর দখলদারদের থাবা এবার নিকাশিনালার উপর। নালা দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট তৈরি করায় নিকাশিনালা অনেক জায়গাতেই সরু হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, বর্ষাকালে ওই সরু নালা দিয়ে জল যেতে না পেরে রাস্তার উপর দিয়ে বইছে। আবার কোথাও নালার উপরই তৈরি করা হয়েছে ঘর। আড়াআড়িভাবে নালার ওপর এমনভাবে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে য়ে, নীচতলা দিয়ে নালার নোংরা জল বয়ে যাচ্ছে। উপরতলায় বসবাস করছেন পরিবারের লোকজন। দখলদারির বিষয়টি মেনে নিয়েছে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতও। যদিও দখলমুক্ত করার আশ্বাস মেলেনি।

বীরপাড়া চৌপথিতে নিকাশিনালার উপরই রয়েছে একটি দ্বিতল ভবন। বীরপাড়ার শরত্ চ্যাটার্জি কলোনি সহ সন্নিহিত এলাকার আবর্জনা, জল একটি বড়ো নালার মাধ্যমে বীরপাড়া চা বাগানের লাইন এলাকা হয়ে গ্যারগান্ডা নদীর দিকে বয়ে যায়। বীরপাড়া চৌপথিতে এমন একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি নালার ওপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে। নীচতলার একাংশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে নিকাশিনালা। উপরতলায় চলছে সাংসারিক কাজকর্ম। বাড়িটি দীর্ঘদিন আগেই নিকাশিনালার উপর তৈরি করা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন আলিপুরদুয়ার জেলাপরিষদের স্থানীয় সদস্যা জসিন্তা লাকড়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দখলদারদের দাপটে বর্তমানে বীরপাড়ার দিনবাজার নামে পরিচিত প্রতিদিনের বাজারটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। সেখানে সাপ্তাহিক হাটও বসে। আলিপুরদুয়ার জেলাপরিষদ এই হাটটি পরিচালনা করে। অথচ হাটের মধ্যেই দোকানের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বাড়িঘর। ওই এলাকায় কয়েকজন স্থানীয় কিছু বাহুবলী নেতার মদতে হাটের জমি কেনাবেচার কারবার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। পরিস্থিতি এমনই যে, হাটবারে বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসার সুযোগ পান না। তাঁরা বসেন শরত্ চ্যাটার্জি কলোনি থেকে বাজারে যাওয়ার রাস্তার দুপাশে নিকাশিনালার ঢাকনার উপর। কারা কেনাবেচার কারবার করছেন, কেনই বা ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করছেন না, এ প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, মুখ খুললে দোকান বসানোই বন্ধ হয়ে যাবে। বীরপাড়ার বাসিন্দা তথা কংগ্রেসের মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক কমিটির সভাপতি অশোক গুহ বলেন, নালা দখল করে বাড়ি, দোকানপাট তৈরি করা বীরপাড়ায় একপ্রকার ঐতিহ্য। বীরপাড়ার দিনবাজার তো দখলদারদের কবজায় চলে গিয়েছে। নিকাশিনালা দখল করে প্রচুর বাড়ি, দোকানপাট এমনকি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও তৈরি হয়েছে। দখলের পেছনে বরাবরই রাজনৈতিক মদত রয়েছে।

- Advertisement -

বীরপাড়া চৌপথি থেকে মাদারিহাটের দিকে যাওয়ার ৩১সি জাতীয় সড়ক ও বীরপাড়া চা বাগানের মাঝামাঝি রাস্তার দুপাশে যেটুকু জমি রয়েছে তা টুকরো টুকরো ভাগে ভাগ করে ইতিমধ্যেই বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। বীরপাড়া চৌপথির আশপাশের অনেক জমিই হয় খাস, নতুবা বীরপাড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষের মালিকানাভুক্ত। অথচ বীরপাড়া চৌপথিতে বর্তমানে সামান্য জমিও ফাঁকা নেই। এমনকি সেখানে নালার উপরই বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। বীরপাড়া চৌপথির আশপাশে শিশুঝুমরা গ্রাম পঞ্চায়ে এলাকাতেও যে অবৈধ দখলদারদের দাপট রয়েছে, সে কথা স্বীকার করেছেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য কুণাল সাঙ্গোয়ার মুন্ডা। তবে তাঁর সাফাই, এখনও পর্যন্ত শিশুঝুমরা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপসমিতিগুলি গঠন করা হয়নি। তাই তিনি বোর্ডের সামনে প্রসঙ্গটি উত্থাপন করতে পারেননি। আলিপুরদুয়ার জেলাপরিষদের স্থানীয় সদস্যা জসিন্তা লাকড়া বলেন, বিগত বোর্ডে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক স্তরে আলোচনার পর এলাকায় একটি সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে, নানা কারণে সমীক্ষা করা হয়নি। নতুন বোর্ডে ফের বিষয়টি উত্থাপন করব।