গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

332

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: বিয়ের চার মাসের মধ্যে শ্বশুরবাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটে আসানসোল দক্ষিণ থানার ওল্ড স্টেশনের বেলডাঙ্গা এলাকায়। মৃতার নাম নিশাকুমারী মণ্ডল (১৮)। এদিন দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ঘটনায় মৃতার স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আসানসোলের হিরাপুর থানার নরসিংহ বাঁধের বাসিন্দা রামভুজন মণ্ডলের মেয়ে নিশা মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় আসানসোল দক্ষিণ থানার ওল্ড স্টেশনের বেলডাঙ্গার বাসিন্দা সুকু ওরফে রাজা মণ্ডলের। গত চারদিন ধরে নিশা তাঁর বাবার বাড়িতেই ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। এর কিছুক্ষণ পরই নিশার স্বামী তাঁর বাবাকে ফোন করে জানান, তাঁর মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। বাড়ির লোকেরা তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

- Advertisement -

মৃতার বাবা রামভুজন মণ্ডল বলেন, ‘বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওর ও স্বামী পণের টাকা বাবার বাড়ি থেকে আনার জন্য মেয়েকে মানসিক চাপ দিচ্ছিল। তাই চারদিন আগে মেয়ে ঝগড়া করে আমার বাড়ি চলে আসে। বুধবার জামাই বাড়িতে এসে মেয়েকে বুঝিয়ে সন্ধ্যায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ঠিক একঘন্টা পরে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে আমাকে আসার জন্য বলা হয়।’ রামভুজনবাবু মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। তিনি সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে, মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় ঘর থেকে উদ্ধার করা গিয়েছে। তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে তিনি জানতে পারেন মেয়ে মারা গিয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে বলেন, মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। পণের টাকা না পেয়ে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছে। ঘটনায় মৃতার বাবা আসানসোল দক্ষিণ থানায় মেয়ের স্বামী সহ চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগ হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।