পণের টাকা অমিল, গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে

134

রায়গঞ্জ: দাবি অনুযায়ী পণের টাকা না মেলায় বধূকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে রায়গঞ্জ ব্লকের ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘাটাল তাজপুর এলাকায়। সোমবার অভিযুক্ত স্বামীকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় মৃতার পরিবার। তবে, বাকি অভিযুক্তরা পলাতক। রায়গঞ্জ থানায় অভিযুক্ত স্বামী আনারুল আনসারী সহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

মৃতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১০ মাস আগে পানিশালার বাসিন্দা মোহদা খাতুন(১৯) সঙ্গে বিয়ে হয় ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের তাজপুর এলাকার বাসিন্দা আনারুল আনসারীর। স্বামী পেশায় দর্জি। অভিযোগ, বিয়ের দুই মাস যেতে না যেতেই ওই গৃহবধূকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করত আনারুল। টাকা না পেলে প্রায়ই মারধর করা হত বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য মহিদা খাতুনকে চাপ দেন স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেজন। টাকা না পেয়ে বধূর উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে পরিবারের লোকেরা। এরপর এদিন সকালে বেধড়ক মারধর করে স্ত্রীকে মেরে শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীদের সন্দেহ হলে স্বামীকে ধরে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ভাটোল ফাঁড়ির পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

- Advertisement -

মৃতার মা ললিফা নেশা বলেন, ‘মেয়ের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এই নিয়ে একাধিকবার সালিশি সভা হয়েছে। দিন কয়েক আগে টেইলার্সের দোকান করার জন্য এক লক্ষ টাকা দাবি করে। লকডাউন পার হলে সেই টাকা দিয়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই আমার মেয়েকে খুন করল জামাই সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।‘ পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘অভিযুক্ত আনারুল আনসারীকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।‘