যুবতীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত গৃহবধূ

416

কলকাতা: শনিবার রাতে কলকাতার দক্ষিণ শহরতলীর আনন্দপুর থানা এলাকায় ঘটে গেল এক নক্কারজনক ঘটনা। একটি বিলাসবহুল কালো রংয়ের গাড়ি থেকে যুবতীর চিৎকার শুনে অপর একটি গাড়ি থেকে নেমে তাঁকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন গৃহবধূ নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়। এরপর যুবতীকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে নীলাঞ্জনাদেবীর পায়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় চালক।

গুরুতর আহত অবস্থায় নীলাঞ্জনাদেবীকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মাথায় ছটি সেলাই পড়েছে। সোমবার তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করে প্লেট বসানো হবে। অপরদিকে নির্যাতিতা যুবতীরও চিকিৎসা চলছে। গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়ার সময় তার পরণের জামা-কাপড় ছেড়া ছিল। সারা গায়ে আঁচড়ের দাগও ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

পুলিশ ওই গাড়ির চালক অমিতাভ বসুকে আটক করে তাঁর গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো সহ বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। রাতে কলকাতা শহরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনা মহিলাদের মনে বিশেষ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী নির্যাতিতা ওই যুবতীর সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর অমিতাভ বসু নামে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মীর আলাপ হয়। শনিবার অমিতাভবাবু ওই যুবতীকে লং ড্রাইভে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় যুবতীটি তা মেনে নেয়। শনিবার রাত আটটা নাগাদ ওই ব্যক্তি যুবতীকে নিয়ে লংড্রাইভে বের হওয়ার নাম করে রাজারহাট, নিউটাউন, বিধাননগর প্রভৃতি এলাকা ঘুরতে থাকে। এভাবে রাত বারোটা বেজে যায়।

যুবতীর পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দি অনুসারে, তিনি বারবার ওই ব্যক্তিকে তাঁর বাড়ির কাছে নামিয়ে দিতে বলতে থাকলে তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা হয়। তখনই তিনি তাঁর হাত থেকে বাঁচার জন্য চিৎকার শুরু করে। ওই ব্যক্তি গাড়িটি থামাচ্ছিলেন না বলে দাবি যুবতীর।

শনিবার নীলাঞ্জনাদেবীর মায়ের জন্মদিন ছিল। তিনি, তাঁর স্বামী ও মেয়ে সেই অনুষ্ঠান শেষে রাত বারোটা নাগাদ গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের গাড়ি ঠিক পিছনে ছিল নীলাঞ্জনাদেবীর বোন ও ভগ্নিপতির গাড়িটি। হঠাৎই পিছনের একটি গাড়ি থেকে এক যুবতীর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে তাঁর স্বামী সৎপতিবাবু গাড়িটি রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করিয়ে দেন। ফলে কালো রঙের গাড়িটি আটকে যায়।

নীলাঞ্জনাদেবী গাড়ি থেকে নেমে ওই যুবতীকে বাঁচাতে ছুটে যান। অবস্থা বেগতিক বুঝে ওই কালো গাড়ির চালক যুবতীকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে দেন। এরপর গাড়ি দিয়ে নীলাঞ্জনা দেবীকে ধাক্কা মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আর সেই সুযোগে ওই চালক তাঁর পায়ের উপর দিয়ে গাড়িটি চালিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরম্পরায় হতভম্ব সৎপতিবাবু ১০০ নম্বরে ডায়াল করে সমস্ত ঘটনা জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নীলাঞ্জনাদেবীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে গিয়ে হাসপাতাল ভর্তি করে। এরপর নির্যাতিতা যুবতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ অমিতাভ বসুকে আটক করে। পুলিশ নির্যাতিতা ওই যুবতীর জবানবন্দি নথিভুক্ত করে এদিন বিকাল নাগাদ তাঁকে ছেড়ে দেয়।