দূর্বা বিক্রি করে সংসারে হাসি ফোটাচ্ছেন অঞ্জনারা

191

বরুণ কুমার মজুমদার, ডালখোলা :  পয়সা দিয়ে কিনতে হত না। তাই কদর ছিল না দূর্বার। সেই দূর্বা ঘাসই এখন হাসি ফোটাচ্ছে ডালখোলা থানার শিকারপুর, দেওয়ানজাগি, হাসানপুর, আব্দুলপুর, কমলপুর, কালিয়ারচর গ্রামের অঞ্জনা, মালতী, শিখা, সুনীতা, সবিতা, কাঞ্চনীদের সংসারে। বাণিজ্যিকভাবে অর্থকরী ফুলের পাশেই ঠাঁই পেয়েছে দূর্বা। পুজোপার্বণ থেকে বিয়ে কিংবা আশীর্বাদ, দূর্বা না হলে শুভ কাজ হয় না। অথচ, শহর-মফসসল এমনকি গ্রামেও হারাচ্ছে মাঠ। আকাল দূর্বার। তাই চাহিদাও তুঙ্গে। উত্তর দিনাজপুর জেলার শিকারপুর, আব্দুলপুর, কমলপুর, হাসানপুর প্রভতি এলাকায় গাঁদা ফুলের পাশাপাশি এখন দূর্বার চাষ হচ্ছে। জমিতে প্লাস্টিক বিছিয়ে ঝুরো মাটিতে ঘাসের গোড়া বসিয়ে পরিচর্যা করতেই দূর্বায় ভরে যাচ্ছে জমি। শিকারপুরের চাষি অশোক মণ্ডল বলেন, বর্তমানে ফুল চাষে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি, কিন্তু দূর্বায় সেই ঝুঁকি নেই। এক কাঠা জমিতে দূর্বা চাষ করে বছরে আয় হয় প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা।
ভূমিহীন অঞ্জনা মণ্ডল, মালতা বারুই, শিখা চৌধুরী, কাঞ্চনী বারুইরা বলেন, আমাদের জমি নেই তাই বিহারে মহানন্দা নদীর তীরে দূর্বা তুলে কাটিহার, শিলিগুড়ি শহরে বিক্রি করি। দূর্বা ঘাস বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে। তাঁরা জানান, বর্তমানে গ্রামগঞ্জেও দূর্বার আকাল পড়েছে। এছাড়াও আগাছানাশক প্রযোগ করে জমির আলের ঘাস নষ্ট করে দেন চাষিরা। তাই বিহারের মহানন্দা নদীর তীরের দূর্বা তুলে বিক্রি করেন তাঁরা। দূর্বার পাশাপাশি শিলিগুড়িতে আকন্দ ফুলেরও চাহিদা আছে। শিকারপুরের দূর্বা ঘাস বিক্রেতা মিনা মণ্ডল জানান, তিনি ঝাড়খণ্ডের রামগড়, মুড়ি, রাঁচি, নামকুম থেকে আকন্দ ফুল সংগ্রহ করে শিলিগুড়ি বাজারে বিক্রি করেন। এক-একটি আকন্দ ফুলের দাম দুই থেকে পাঁচ টাকা। এছাড়াও কিশনগঞ্জ, কাটিহার, রায়গঞ্জ সহ বিভিন্ন শহরে দূর্বার চাহিদা বাড়ছে।