জলপাইগুড়ি : প্রকল্পের ঘর কোথায় তৈরি করা হবে সেই বিষয়ে সমীক্ষা করা হয়নি। আবার ঘর তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি টাকা পাওয়ার জন্য উপভোক্তাদের নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলা হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাওযার জন্য শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছেন জলপাইগুড়ি পুর এলাকার বাসিন্দাদের অনেকে। হাউজিং অ্যান্ড আরবান অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক থেকে পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা হাতে পেয়ে অবাক জলপাইগুড়ি পুরসভার বিভিন্ন ওযার্ডের একাধিক বাসিন্দা। এমন ঘটনায় জলপাইগুড়ি পুরসভার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে বিরোধীরা।

২০১৬-১৭ আর্থিক বছর থেকে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করে তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি পুরসভা। এখনও পর্যন্ত মোট ৫ দফায় প্রায় ৬০০০  উপভোক্তার নাম এই প্রকল্পের জন্য পাঠানো হয়েছে। বহু উপভোক্তা ঘর পেয়েছেন। প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর তৈরির জন্য ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। ওই টাকা পাওয়ার জন্য উপভোক্তাকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। কোন জায়গায় ওই ঘর তৈরি হবে তা পুরসভার পক্ষ থেকে সমীক্ষা করা হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অ্যাকাউন্ট খোলা হযনি, সমীক্ষা হয়নি, এমন একাধিক উপভোক্তার নামে হাউজিং অ্যান্ড আরবান অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো এসেছে। শহেরের ২৪ নম্বর ওযার্ডের বাসিন্দা সুকুমার বসাক বলেন, ‘চিঠি পেযে অবাক হয়েছি। চিঠিতে বলা হয়েছে— আপনার ঘরের কাজ শেষ। পাকা বাড়ি পাওযার জন্য আপনাকে অভিনন্দন। কিন্তু ঘর দেওয়া তো দূরের কথা, সার্ভে পর্যন্ত হয়নি।’ বিষযটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে তিনি চিঠি পাঠাবেন।

এই ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সি বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে একাধিক উপভোক্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্প রাজ্য সরকার পুরসভাগুলিকে বাস্তবাযিত করার দায়িত্ব দিয়েছে।এই ঘটনার পরে মনে হচ্ছে পুরসভা থেকে এই উপভোক্তাদের নামে ঘর দেখিয়ে ওই টাকা অন্য খাতে সরানো হয়েছে। বিষয়টি নিযে তদন্ত করা উচিত্।’

২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল কালাম বলেন, ‘এই প্রকল্পের ঘরের জন্য আমি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ছিলেন। বাড়িও সার্ভে করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পুরসভার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় আমি ঘর পাচ্ছি না। কিন্তু হঠাৎ করেই এদিন একটি চিঠি আসে। সেখানে আমাকে ঘর পাওয়ার জন্য শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়েছে।’ ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাম কাউন্সিলার দুর্বা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার ওযার্ডে ১০ জনের নামে চিঠি এসেছে। নিয়ম অনুসারে ঘর পাওয়ার পরেই চিঠি আসার কথা। কিন্তু এখানে তা হয়নি। যে কারনেই মনে হচ্ছে ভেতরে কোনো গোলমাল হচ্ছে।’ ১ নম্বর ওযার্ড তৃণমূল কাউন্সিলার সম্রাট রাযচৌধুরি জানান, তার ওয়ার্ডে ১৫ জন এই চিঠি পেয়েছেন। তবে তিনি কোনো বিতর্কে না গিযে জানিয়েছে এই বিষয় নিয়ে পুরসভার সঙ্গে কথা বলবেন।

পুরসভার চেয়রম্যান ইন কাউন্সিল (পূর্ত) সন্দীপ মাহাত বলেন, ‘এই ঘটনার বিষয়ে কোনো কাউন্সিলার এখন পর্যন্ত কিছু জানাননি। তাঁদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলা হবে। কেন্দ্রীয মন্ত্রক থেকে কেন এই ধরনের চিঠি পাঠান হল, সেটাও যাচাই করা হবে।

তথ্য- দিব্যেন্দু সিনহা